ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বানে যা বলল চীন ও যুক্তরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক শক্তির উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার এক বার্তায় তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চীন, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে এই নৌপথকে সচল রাখতে ভূমিকা রাখবে।

ট্রাম্পের এই আহ্বানের পর বিশ্বের দুই শক্তিধর দেশ চীন ও যুক্তরাজ্য তাদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের একজন মুখপাত্র সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো নিশ্চিত তথ্য না দিলেও বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির দ্রুত অবসান কামনা করেছেন। সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সব পক্ষের দায়িত্ব। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

চীনের এই অবস্থান থেকে বোঝা যায় যে, তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে জড়ানোর চেয়ে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পক্ষপাতী।

অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা মিত্র এবং অংশীদারদের সঙ্গে বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছে। তবে ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি ব্রিটিশ সরকার।

মূলত ইরান কর্তৃক এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধের হুমকির পর বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন আন্তর্জাতিক মিত্রদের সরাসরি সামরিক সহায়তা চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights