ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে অ্যামাজনে সুবিধায় চীনা বিক্রেতারা : সিইও

অনলাইন ডেস্ক
চীনা পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান প্রকাশ করেছেন অ্যামাজনের সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি। তিনি জানান, কোম্পানিটির বিস্তৃত খুচরা কার্যক্রম এই শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকতে পারে।

প্রথম প্রান্তিকের শক্তিশালী আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিশ্লেষকদের সঙ্গে এক আলোচনায় জ্যাসি বলেন, অ্যামাজনের ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে বিপুলসংখ্যক বিক্রেতা কার্যকরভাবে অংশ নিতে পারে। পাশাপাশি এর কাঠামো এই নতুন আমদানি শুল্কের মধ্যেও চীনা বিক্রেতাদের জন্য একটি সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

চীন থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্কারোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিক্রেতারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন উল্লেখ করে জ্যাসি ব্যাখ্যা করেন, ‘যেসব খুচরা বিক্রেতা সরাসরি চীন থেকে পণ্য আনছেন না, তারা সাধারণত এমন কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য কিনছেন, যারা নিজেরাই চীন থেকে পণ্য এনে তা মার্কিন ক্রেতাদের কাছে উচ্চ মূল্যে রিব্র্যান্ড করে বিক্রি করছে।’

তিনি আরো বলেন, এই বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার জটিল কাঠামোই অ্যামাজনের মার্কেটপ্লেসে সরাসরি চীন থেকে পণ্য বিক্রি করা বিক্রেতাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।

অ্যামাজন সিইও বলেন, ‘এই খুচরা বিক্রেতারা যে দামে পণ্য কিনছেন, তা সরাসরি মার্কিন ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করা চীনা বিক্রেতাদের তুলনায় বেশি। ফলে এসব খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চীনা বিক্রেতাদের তুলনায় শুল্কের বোঝা আরো বেশি পড়বে।’

অ্যামাজনের বৈচিত্র্যময় বিক্রেতা প্ল্যাটফরমের সুবিধা

জ্যাসি বলেন, অ্যামাজনের মার্কেটপ্লেসে প্রায় ২০ লাখ স্বাধীন বিক্রেতা রয়েছে, যা একটি বৈচিত্র্যময় বাজার তৈরি করেছে। তিনি ধারণা দেন, যদি কোনো মার্কিন বিক্রেতা শুল্ক বৃদ্ধির কারণে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বাজার থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে অন্য দেশের বিক্রেতারা সেই ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে।

তিনি আরো বলেন, ‘যখন আপনার প্ল্যাটফর্মে এত বেশি বৈচিত্র্য থাকে, তখন আমাদের কাছে সম্ভাবনা থাকে—কিছু বিক্রেতা বাজারের শেয়ার দখলের সিদ্ধান্ত নেবে এবং তারা এই শুল্কের পুরোটা বা অংশবিশেষ গ্রাহকদের ওপর না চাপিয়ে নিজেরা বহন করবে।’

যদিও অনেক বিক্রেতা শুল্ক বৃদ্ধির খরচ ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে বলে জ্যাসি স্বীকার করেন। তবুও তিনি মনে করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কিছু বিক্রেতা প্রতিযোগিতামূলক দামের মাধ্যমে নতুন গ্রাহক আকর্ষণের কৌশল হিসেবে নিজেরাই বাড়তি খরচ বহন করতে পারে। অ্যামাজনের বিস্তৃত বিক্রেতা নেটওয়ার্ক এমন পরিস্থিতিতে নমনীয়তা বজায় রাখার সুযোগ তৈরি করে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শুল্ক বৃদ্ধির খরচ পণ্যের দাম থেকে না তুলে অ্যামাজনের মুনাফা রক্ষায় কোম্পানিটি বিক্রেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তবে অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা গ্রাহকদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights