ডারউইনের বাতাস-বাউন্সে বাংলাদেশের নতুন পরীক্ষা

স্পোর্টস ডেস্ক

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখে ডারউইনে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম দিনের প্রস্তুতিতে সবুজ ঘাসের উইকেটের বাউন্সে সন্তুষ্ট ক্রিকেটাররা। বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম জানান, উইকেট, ফিল্ডিং ও রানিং—সব মিলিয়ে দলের প্রথম দিনের অনুশীলন ইতিবাচক হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের অনুশীলন চলছে ডিএক্সসি অ্যারেনায়, যা প্রথম টেস্টের ভেন্যু টিআইও স্টেডিয়াম থেকে মাত্র কয়েক মিনিটের হাঁটার দূরত্বে। সিঙ্গাপুরে যাত্রাবিরতির পর দলের বাকি সদস্যরাও ডারউইনে পৌঁছেছেন। ফলে পরদিন থেকে পুরো দল একসঙ্গে প্রস্তুতি শুরু করার কথা। ৮-১১ আগস্ট একই মাঠে সিরিজের আগে বাংলাদেশের একমাত্র তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

আগস্টের শুরুতে ডারউইনের আবহাওয়া গরম হলেও আর্দ্রতা তুলনামূলক কম। দলের একটি সূত্র জানিয়েছে, দেশের শীতকালের হালকা গরমের মতো অনুভূতি হচ্ছে সেখানে, যা অনুশীলনের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করেছে।

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়াও শক্তিশালী দল নিয়েই মাঠে নামবে। প্রস্তুতি ম্যাচে ‘অস্ট্রেলিয়া একাদশ’-এর হয়ে খেলবেন তিন টেস্ট-অভিজ্ঞ ক্রিকেটার- স্যাম কনস্টাস, কার্টিস প্যাটারসন ও জশ ফিলিপ। যদিও তাঁরা কেউই মূল টেস্ট স্কোয়াডে নেই।

বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে যাচ্ছে সিরিজের দুই ভেন্যু- ডারউইন ও ম্যাকাই। ডারউইনে সর্বশেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৪ সালে, আর এবারের দ্বিতীয় টেস্টের ভেন্যু ম্যাকাইয়ে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন হচ্ছে। ফলে দুই মাঠই আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে অনেকটাই অপরিচিত।

বর্তমান দলে ২০০৩ সালের ডারউইন টেস্ট খেলা কোনো ক্রিকেটার নেই। তবে ওপেনার তানজিদ হাসান ও পেসার হাসান মাহমুদ টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে টিআইও স্টেডিয়ামে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, যা দলের জন্য বাড়তি সুবিধা হতে পারে।

বাংলাদেশ দলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, টিআইও স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন উইকেটে সমান বাউন্স থাকে এবং ব্যাটার ও বোলার—উভয়ের জন্যই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। শুষ্ক আবহাওয়ায় এখানে বড় স্কোর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে তাপমাত্রা বাড়লে উইকেটে ফাটল দেখা দিতে পারে, যা স্পিনারদের সহায়তা করতে পারে।

গত বছর অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের দুটি চার দিনের ম্যাচেও এই মাঠে রানবন্যা দেখা গেছে। দুই ম্যাচে হয়েছে ছয়টি সেঞ্চুরি, যার একটি ছিল দ্বিশতক। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটারদের দাপটে দুই ইনিংসই শেষ করা সম্ভব হয়নি।

ডারউইনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো প্রবল বাতাস এবং তুলনামূলক বড় আউটফিল্ড, বিশেষ করে স্কয়ার বাউন্ডারির দিক। তাই উইকেট, আবহাওয়া ও মাঠের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রেখেই প্রথম টেস্টের কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ দল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights