ডিপিএইচই’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এহতাশামুল রাসেল খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই)-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পানি সম্পদ) এহতাশামুল রাসেল খান-এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।
সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, অবৈধ পদোন্নতি, রাজনৈতিক যোগসাজশ এবং আর্থিক দুর্নীতির নানা অভিযোগে প্রকৌশল মহলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে তদন্তের দাবিও উঠেছে।
সূত্র জানায়, এহতাশামুল রাসেল খান নিয়মনীতি না মেনে রাজনৈতিক প্রভাব ও সিন্ডিকেটের সহায়তায় প্রকৌশলী ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত হন এবং দ্রুত পদোন্নতি লাভ করেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের একাধিক প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
প্রশাসনিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে বদলির নিয়ম অমান্য করে তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে প্রধান কার্যালয়ের একই পদে অবস্থান করছেন। এতে অফিসে একক কর্তৃত্ব, পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহাম্মদ সাদ্দু খাঁ-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন ঠিকাদারি ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কমিশন বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন।
বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে অভ্যন্তরীণ সূত্র।
যদিও তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সদস্য, তবে অভিযোগ রয়েছে—সম্প্রতি তিনি অন্যান্য কিছু সংগঠনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন। সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো এবং প্রশাসনের ভেতরে ভিন্নমত উসকে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
একাধিক সূত্র জানায়, তাঁর এই কর্মকাণ্ডে ডিপিএইচই-এর ভেতরে শৃঙ্খলা ও সুশাসনের পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এহতাশামুল রাসেল খানের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে একাধিক সরকারি পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়েছে। এর ফলে জনস্বাস্থ্য খাতে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটেছে।
কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন এলাকায় পরিষ্কার পানি সরবরাহের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ রয়েছে, অথচ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের হিসাব মিলছে না।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এহতাশামুল রাসেল খানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে বলে জানা গেছে। তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন “দীর্ঘদিন ধরে একই পদে থেকে তিনি এককভাবে অফিস পরিচালনা করছেন। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নষ্ট হচ্ছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।”
সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এহতাশামুল রাসেল খানের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
