ডিসেম্বর রোজার শেষদিকে জমে উঠেছে দিনাজপুরের ঈদ বাজার
আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উত্তরের সীমান্ত শহর দিনাজপুরে জমে উঠেছে ঈদের
কেনাকাটা। শহরের বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত সবখানেই এখন ক্রেতাদের
উপচে পড়া ভিড়। তবে এবারের চিত্র অন্যান্য বছরের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। বিশেষ করে
ভিসা জটিলতার কারণে যারা কেনাকাটা করতে প্রতিবেশী দেশে যেতে পারেননি, তারা
এখন স্থানীয় বাজারেই ভিড় করছেন।
দিনাজপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী মালদহ পট্টি, জেলরোড ও বাহাদুরবাজার এলাকা ঘুরে দেখা
গেছে, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। মালদহ পট্টির বড় শোরুমগুলোতে
নারীদের শাড়ি ও থ্রি-পিস কেনার যেন প্রতিযোগিতা চলছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন,
এবার তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানি ড্রেস। জেলরোড এলাকার
গার্মেন্টস দোকানগুলোতেও তিল ধারণের জায়গা নেই, সেখানে মূলত শিশুদের বাহারি
পোশাকের চাহিদা বেশি।
তবে কেনাকাটার এই আনন্দের মাঝেও বিষাদের সুর হয়ে দেখা দিয়েছে দ্রব্যমূল্য। বাজারে
আসা অনেক ক্রেতাই অভিযোগ করেছেন, গত বছরের তুলনায় প্রতিটি পোশাকে ৫০০
থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম হাঁকানো হচ্ছে। এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে
বলেন, যে কাপড়ের দাম আগে ছিল ১২০০ টাকা, তা এখন ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য এবারের ঈদ বাজেট মেলাতে বেশ হিমশিম খেতে
হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের দাবি, কাপড়ের মান ও বর্তমান বাজার
পরিস্থিতি অনুযায়ী দাম খুব বেশি নয়। রোজার প্রথম দিকে বিক্রি কিছুটা কম
থাকলেও মাঝামাঝি সময় থেকে ক্রেতাদের সমাগম বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন
ব্যবসায়ীরা। সীমান্ত পেরিয়ে ওপাড়ে কেনাকাটা করতে যাওয়ার যে রেওয়াজ দীর্ঘদিনের,
এবার ভিসা বিড়ম্বনায় তাতে ছেদ পড়েছে। তবে দিনাজপুরের বিপণিবিতানগুলোতে হরেক
রকমের দেশি-বিদেশি পোশাকের পসরা বসায় আক্ষেপ ভুলে স্থানীয় বাজারেই কেনাকাটা
সেরে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
