ড্রোন রহস্য, আমিরাত-সৌদিও ইরানে সরাসরি হামলা শুরু করেছে?
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শিরাজ এলাকায় একটি চীনা ‘উইং লুং-টু’ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রাথমিকভাবে বিধ্বস্ত ড্রোনটির ছবি প্রকাশ করে একে মার্কিন ‘এমকিউ-৯ রিপার’ বলে দাবি করলেও ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স বিশ্লেষকরা ড্রোনটিকে চীনা প্রযুক্তিতে তৈরি উইং লুং-টু হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
এই ঘটনার পর গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের মধ্যে এই প্রশ্ন জোরালো হয়ে উঠেছে, সৌদি আরব বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কোনো উপসাগরীয় রাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক অভিযানে জড়িয়ে পড়েছে কি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব সামরিক ভাণ্ডারে উইং লুং ড্রোন নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলও এই নির্দিষ্ট মডেলের ড্রোন ব্যবহার করে না। তবে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশই এই চীনা ড্রোনটির পরিচিত ব্যবহারকারী।
সম্প্রতি সুদান গৃহযুদ্ধেও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ফলে ইরানের আকাশে এই ড্রোনের উপস্থিতি উপসাগরীয় দেশগুলোর যুদ্ধে সম্পৃক্ত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে যখন ইরান বিরোধী অভিযানে সমর্থনের জন্য রিয়াদ ও আবুধাবির ওপর চাপ বাড়ছে, তখন এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস পরবর্তীতে ড্রোনটির পরিচয় নিয়ে নতুন তথ্য দিলেও বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান চীন থেকে ড্রোন পাওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সেগুলো ছিল মূলত ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন, যা বর্তমানে বিধ্বস্ত হওয়া উইং লুং ড্রোনের চেয়ে ভিন্ন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া মন্তব্যের মুখে সৌদি আরব নিজেদের অবস্থান নিয়ে দোটানায় থাকলেও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে তুলনামূলক বেশি আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
