ঢোল-মাদলে মুখরিত কারাম উৎসব
বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ
পায়ে আলতা, খোপায় বাহারি ফুল, আর লাল-হলুদ শাড়ির রঙিন আবহে চারপাশ যেন মেতে উঠেছিল এক অন্যরকম উৎসবে। ঢোল, মাদল আর মন্দিরার রিনঝিন সুরে মুখরিত মাঠ-সবমিলিয়ে জীবনের ক্লান্তিভরা যান্ত্রিকতাকে পেছনে ফেলে সমতলে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাণের উৎসব ‘কারাম উৎসব’ নিয়ে এলো রঙের এক নতুন ছোঁয়া। প্রকৃতির বন্দনা আর নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার এ আয়োজন পরিণত হয়েছিল এক মিলনমেলায়।
গতকাল বিকালে জাতীয় আদিবাসী পরিষদের আয়োজনে পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহাসিক মাঠে তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে নানা বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কেবল আদিবাসী সম্প্রদায়ই নয়, এই বৈচিত্র্যময় উৎসবের রূপ দেখতে ভিড় জমিয়েছিলেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ওঁরাও, মুন্ডা, সাঁওতাল, মাহাতো ও হাঁড়িসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষ এতে অংশ নেয়। এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল নিজস্ব মাতৃভাষায় গাওয়া সমবেত গান আর ছন্দময় নৃত্য। নাচের তালে তরুণ-তরুণীরা ফুটিয়ে তোলেন তাঁদের হারিয়ে যেতে বসা ভাষা, সংস্কৃতি ও হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
উৎসবের সার্বিক শৃঙ্খলা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে কথা হয় আদিবাসী সমাজকর্মী ও গবেষক বিশ্বনাথ সিংয়ের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘কারাম পূজা আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্য। প্রাকৃতিকভাবেই আদিবাসীরা পরিবেশের পূজারি। এ উৎসব আমাদের প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কথাই বারবার মনে করিয়ে দেয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শহুরে সংস্কৃতি ও আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের এ মৌলিক উৎসবগুলো যেন হারিয়ে না যায়, সেজন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।’
আয়োজকদের মতে, সংস্কৃতির এ শেকড়গুলো আগামী দিনের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত এক অসাম্প্রদায়িক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
