তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা
অনলাইন ডেস্ক
দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তার আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
বুধবার সন্ধ্যা থেকেই বিমানবন্দর এলাকা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ে ঘিরে ফেলা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, তারেক রহমানের যাতায়াতের পুরো রুটজুড়ে আওতায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ এসকর্টের পাশাপাশি একাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এরই মধ্যে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় অন্তত নয়টি চেকপোস্ট চালু রয়েছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানো হতে পারে।
বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমানের গাড়িবহরকে ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে। তার নিরাপত্তার জন্য আগেই বুলেটপ্রুফ গাড়ি আমদানি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার লন্ডনের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তারেক রহমান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, তার বহনকারী ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থানের পর সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট) এলাকায় গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছে বিএনপি। কুড়িল মোড়সংলগ্ন সড়কের উত্তর পাশে দক্ষিণমুখী করে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে একটি বিশাল মঞ্চ।
বিমানবন্দরে অবতরণের পর ভিআইপি লাউঞ্জে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানাবেন। এরপর তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যাবেন। এরপর সংবর্ধনাস্থলে যাবেন এবং সেখানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। সেখান থেকে বিমানবন্দর সড়ক ও কাকলী মোড় হয়ে গুলশান-২ নম্বরে নিজ বাসভবনে ফিরবেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর গ্রেফতার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দী ছিলেন তারেক রহমান। মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তিনি। একই বছরের ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর একের পর এক মামলার কারণে দেশে ফেরা আর সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
