তিন দিনেও গ্রেপ্তার নেই, এলাকাবাসীর আলটিমেটাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মুছাব্বির নিহত হওয়ার ঘটনায় দুই দুর্বৃত্তের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পর মোটিভ হিসেবে আধিপত্যের লড়াই সামনে এলেও কার নির্দেশে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হলো, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুটার গ্রেপ্তার হলেই নিশ্চিত হওয়া যাবে এ ঘটনার নেপথ্যে কে বা কারা জড়িত। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের আলটিমেটাম দেওয়া হয়। গতকাল আম্বরশাহ-২ জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। পরে মিছিলটি ফার্মগেট হয়ে বিজয় সরণি সড়ক ধরে তেজগাঁও থানার সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে বিক্ষোভ শেষে তারা কারওয়ান বাজার গোলচত্বরে এসে সমাবেশ করে। এদিকে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডসংশ্লিষ্ট আরও একটি ভিডিও ফুটেজ এসেছে পুলিশের হাতে। এ নিয়ে জোর তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু বলেন, ‘নতুন পাওয়া ভিডিও ফুটেজে শুটারদের চেহারা আরও স্পট; যা বিশ্লেষণ করে হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ এর আগে যে ভিডিও ফুটেজ পেয়েছিল পুলিশ, সেখানে দেখা যায় স্টার কাবাবের পেছনের গলিতে বস্তা নিয়ে বসে ছিল দুই দুর্বৃত্ত, মুছাব্বিরকে দেখামাত্র বস্তা থেকে পিস্তল বের করে পেছন থেকে গুলি করে তারা। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। আবার উঠে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন মুছাব্বির। মুছাব্বির হত্যার প্রতিবাদে গতকালের বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশে এলাকাবাসীর পাশাপাশি তেজগাঁও বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশে মুছাব্বিরের মামা ও যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক কামাল আহমেদ আসাদ বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসররা ও বিভিন্ন অপশক্তি পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা প্রতিটি হত্যার বদলা চাই না, আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা কোনো অজুহাত শুনতে চাই না। পুলিশের যে সক্ষমতা আছে, আমরা বিশ্বাস করি তারা পারবে। এজন্য আমরা সবাই এবং এলাকাবাসী সহযোগিতা করলে অবশ্যই খুনিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব।’ সমাবেশে আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান বলেন, ‘সারা দেশে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। মুছাব্বিরকেও পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে। কিছুদিন আগে পল্লবীতে মুছাব্বির ভাইয়ের এক বন্ধুকে দোকানে ঢুকে গুলি করা হয়। পরে একজনকে ধরা হলো, সেই ব্যক্তি মারা গেল। আমাদের কি বোকা মনে করা হচ্ছে? এভাবে হত্যার ঘটনা আড়াল করার চেষ্টা চলছে। মুছাব্বিরের ঘটনায় যেন এমন কিছু না ঘটে।’ স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ বলেন, ‘আমরা একজন প্রিয় অভিভাবককে হারিয়েছি। মুছাব্বির ভাইয়ের ওপর হামলা ও তাঁর হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।’ বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় ঢাকা মহানগরী উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্মসম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হন তেজগাঁও থানার ভ্যানশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ। এ ঘটনায় মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights