তিমি শিকার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে আইসল্যান্ড
অনলাইন ডেস্ক
আইসল্যান্ডে শেষ হতে চলেছে বিতর্কিত তিমি শিকারের যুগ। বাণিজ্যিক তিমি শিকার পুরোপুরি বন্ধ করতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে দেশটির পার্লামেন্টে নতুন বিল উত্থাপন করতে যাচ্ছে আইসল্যান্ডের সরকার। প্রস্তাবিত বিলটি পাস হলে আইনগতভাবেই আইসল্যান্ডে যেকোনো ধরনের তিমি শিকার চিরতরে নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে তিমি শিকারকারী দেশের তালিকায় কেবল নরওয়ে ও জাপান অবশিষ্ট থাকবে।
বহু বছর ধরে বিশ্বজুড়ে প্রাণিকল্যাণ সংস্থা, পরিবেশবাদী ও বিনোদন জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের তীব্র আপত্তির মুখে পড়েছিল আইসল্যান্ডের তিমি শিকার কার্যক্রম। তবে সব সমালোচনা পেছনে ফেলে চলতি বছরের জুনে শুরু হওয়া শিকারের মৌসুমেও দেশটিতে ব্যাপক হারে তিমি মারা হয়। প্রাণী সংরক্ষণ সংস্থা ‘হিউমেন ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিম্যালস’-এর সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত চলতি মৌসুমে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৮০টি ফিন তিমি শিকার করা হয়েছে। যদিও এ বছর আইনগতভাবে সর্বমোট ১৫০টি ফিন তিমি শিকারের কোটা বরাদ্দ ছিল।
সংস্থাটির মুখপাত্র ওয়েন্ডি হিগিন্স এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেন যে, বাণিজ্যিক তিমি শিকার বন্ধের এই সিদ্ধান্তকে সফল করার পেছনে রাজনৈতিক ও জনসমর্থনের পাশাপাশি সুদৃঢ় নৈতিক, পশুচিকিৎসা, আইনি ও পরিবেশগত যৌক্তিক কারণ রয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের লাল তালিকায় ফিন তিমিকে ইতিমধ্যেই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইসল্যান্ডে সরকার নিয়ন্ত্রিত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি পাসের বিষয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী প্রশাসন। সরকার তাদের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে স্পষ্ট জানিয়েছে, নতুন আইনের লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক তিমি শিকারের ওপর একটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা। উল্লেখ্য, তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশটিতে টিকে থাকা একমাত্র তিমি শিকারি প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ বছর মেয়াদি লাইসেন্স প্রদান করেছিল। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবার সে ধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে বর্তমান প্রশাসন।
আইনটি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে কেবল নরওয়ে ও জাপানই বাণিজ্যিক তিমি শিকার অব্যাহত রাখা দেশের তালিকায় থাকবে। আন্তর্জাতিক তিমি শিকার কমিশনের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিমি রক্ষা ও বিলুপ্তি রোধে ১৯৮৬ সালে একটি সর্বজনীন স্থগিতাদেশ দেওয়া হলেও ১৯৯৩ সালে নরওয়ে এবং ২০০৬ সালে আইসল্যান্ড পুনরায় বাণিজ্যিক তিমি শিকার শুরু করে। অন্যদিকে, জাপান ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক তিমি শিকার কমিশন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় এবং নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমা ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে তিমি শিকার অব্যাহত রাখে। অবশ্য মূলধারার বাণিজ্যিক শিকার নিষিদ্ধ থাকলেও গ্রিনল্যান্ড বা আলাস্কার মতো বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু আদিবাসী গোষ্ঠীর ওপর এই বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার শিথিলতা রয়েছে, কারণ তিমি শিকার তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও পুষ্টির চাহিদার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
সূত্র: রয়টার্স
