তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ আহত-৪, থানায় মামলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :১৮/০৪/২৫
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বসতবাড়ির সীমানাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীসহ চারজন গুরুত্বর আহত হয়েছেন। গত ৮ এপ্রিল সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের থানা রোড জুম্মাপাড়া চন্দ্রখানা গ্রামে হামলার ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাতে ফুলবাড়ী থানায় মামলা রুজু হয়েছে।

আহতরা হলেন আইয়ুব আলী (৭২) ও তার স্ত্রী নুরজাহান বেগম (৬৩), ছেলে নুর আমিন (৩৮) ও মেয়ে এছপা খাতুন (৩৭)। আহত নুর আমিনের অবস্থা গুরুতর। তিনি মাথায় ধাঁরালো অস্ত্রের কোপ লেগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাঁতরাচ্ছেন।

আহত স্বজনদের চিকিৎসার কাজে ব্যস্ত থাকায় ঘটনার এক সপ্তাহ পর ফুলবাড়ী থানায় একটি লিখিত এজাহার (অভিযোগ) দায়ের করেছন আহত আইয়ুব আলীর বড় ছেলে নুর ইসলাম। অভিযোগ তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা রেকর্ড করেছেন ফুলবাড়ী থানা পুলিশ। শুক্রবার বিকালে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আইয়ুব আলীর পরিবার ও প্রতিবেশী সিরাজুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ভুটু, সাইদুল ইসলাম বাংটুর সাথে বসতবাড়ির জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। দুই পরিবারের মাঝে প্রায় সময়ই সীমানা অভিরতা নিয়ে বিবাদ লেগে থাকতো। এরাই জের ধরে সেদিন মারামারির ঘটনা ঘটেছিল।

আহতদের পরিবার জানায়, আইয়ুব আলীর ছোট ছেলে নুর আমিন ইসলাম তার বাড়ির পানি নিষ্কাশনের জন্য ভেতর আঙ্গিনায় পাইপ বসাচ্ছিলেন। প্রতিবেশীর সাইফুল ইসলাম ভুটুর সীমানা সংলগ্ন হাওয়ায় এক বসানোর কাজে বাধা দিলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে সাইফুল ইসলাম ভুটুর পরিবারের অন্য সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ লোহার রড পাইপ ও লাঠি সোটা নিয়ে নুর আমিনের উপর হামলা করেন। এ সময় নুর আমিনকে রক্ষা করতে গিয়ে তার বাবা মা ও বোনও হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।

আহতদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে হামলা কারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পড়ে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় তাদেরকে উদ্ধার করে দ্রুত ফুলবাড়ী হাসপাতালে নেওয়া হয়। মাথায় চোট লাগা ও প্রচুর রক্তক্ষরণের ফলে আহত নুর আমিনের অবস্থা খুবই গুরুতর হয়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রাসেল মিয়া, আজিজুর রহমান দুলাল ও আকাশ মিয়া জানান, সেখানে গিয়ে জানতে পারি সীমানা সংলগ্ন স্থানে পানিষ্কাশনের জন্য পাইপ দিচ্ছিল নুর আমিন। এ সময় অপর পক্ষ এসে বাঁধা দিলে কথা কাটাকাটি হয়। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।আমরা সেখানে পৌঁছানোর আগেই মারামারির ঘটনা ঘটেছিল। আমরা গিয়ে দেখি কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছে। পরে আহতদের উদ্ধার করে ফুলবাড়ী হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দেই। পরে তাদের পরিবারের লোকজন তোদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

অভিযোগকারী নুর ইসলাম জানান, বসতবাড়ির সীমানা জটিলতার কারণে তারা প্রায় সময় আমার পরিবারের লোকজনকে মারপিট ও হত্যার হুমকি দিত। ঘটনার দিন তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা নিয়ে এসে আমার ছোট ভাইয়ের উপর হামলা চালিয়েছে। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আমার বাবা, মা এবং বোনও হামলার শিকার হয়েছে। বাবা-মা ও বোন একটু সুস্থ হলেও ছোট ভাই এখনো গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছে। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি চাই অপরাধীদের আইনের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।

এ প্রসঙ্গে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ গুরুত্বসহকারে তদন্ত করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাতে মামলা রেকর্ড করা হয়। আসামীদেরকে গ্রেফতার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights