তৃণমূলের নাম-প্রতীক বদলে ক্ষুব্ধ মমতা, বললেন ‘গণতন্ত্রের কালো দিন’

দীপক দেবনাথ, কলকাতা

পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা এবং শুক্রবার নতুন নাম-প্রতীক বরাদ্দের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি এ সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিন’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এর বিরুদ্ধে তারা লড়াই করবেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও দলটির সংরক্ষিত ‘ফুল ও ঘাস’ প্রতীক ব্যবহারে অন্তর্বর্তী নিষেধাজ্ঞা দেয়। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে দুই পক্ষের দলীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে কমিশন উভয় গোষ্ঠীকে বিকল্প নাম ও প্রতীক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর জন্য ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক বরাদ্দ করা হয়।

শুক্রবার কালীঘাটে সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত একটা নাগাদ আমি এই তথ্যটা পাই। ওই রাতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে কেউ ছিল না। কিন্তু তারপরেও আমরা সংবিধানকে অশ্রদ্ধা করছি না। আমরা সাংবিধানিক চেয়ারকে অশ্রদ্ধা করছি না। কিন্তু আমরা মনে করি গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটা একটা কালো দিন।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে যা হচ্ছে সেটা সত্যি খুব দুঃখজনক ঘটনা, অসাংবিধানিক, অবৈধ, অগণতান্ত্রিক এবং পুরোটাই রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ। কেবলমাত্র একটি রাজনৈতিক দলকে সন্তুষ্ট করার জন্যই এটা করা হচ্ছে।’

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর ভাষায়, ‘নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছে, আমরা মনে করি এটা অবৈধ। উপনির্বাচনের সময় খুবই কম। যেখানে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর্ব শেষ হয়ে গেছে, প্রতীক চিহ্ন জমা দেওয়া হয়ে গেছে সেখানে কমিশন কীভাবে এই জিনিসটা করতে পারে?’

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা এর বিরুদ্ধে মাথা নত করব না। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করব এবং প্রতিহত করব। ২৮ বছরের একটি রাজনৈতিক দল, যার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমি—কত বছরের লড়াই, সংগ্রামের পর এরকম ধরনের জঘন্য রাজনীতির খেলা মেনে নেওয়া যায় না।’

মমতা বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, ‘আমি চাই বিজেপির এক্ষুনি বিদায় নেওয়া উচিত। বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর দলের কর্মীরা কেঁদেছেন, আর বিরোধীরা আনন্দ করেছে।

ঘটনার পর কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী তাঁকে ফোন করেছিলেন বলেও জানান মমতা। দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন বলে জানান তিনি। মমতা বলেন, ‘আমরা সকলেই একত্রে আছি এবং আমরা একসঙ্গে এই লড়াই লড়ব। আমরা বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করতে যাব না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights