তেলের লাইনেই রাত-দিন

জিন্নাতুন নূর

কী রাত, কী দিন এমনকি গভীর ও ভোর রাতেও মানুষ তেলের খোঁজে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনের সামনে ভিড় করছেন। গাড়িচালকদের এখন আর রাতদিন বলে কিছু নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে তেলের লাইনে। দিন দিন লাইন মাইলের পর মাইল ছাড়িয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কগুলোতে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। তাছাড়া রাইড শেয়ার করা মোটরসাইকেল চালক ও ডেলিভারিম্যানদের কর্মঘণ্টার ক্ষতি হচ্ছে। আয় কমছে এসব নিম্ন আয়ের পেশাজীবীদের। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ভয়ে অনেক চালকের মধ্যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে। ধৈর্য হারিয়ে অনেক চালক নিজেদের মধ্যে এবং পাম্পের কর্মচারীদের সঙ্গে তর্ক ও হাতাহাতিতে জড়াচ্ছেন।

তেল নিতে ৫ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে : রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও প্রাইভেটকারের চালকরা ক্ষেত্রবিশেষে ৫ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত তেল কিনতে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন। তেল ফুরিয়ে গেলে অনেকে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। সকালে যারা লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তাদের রাত হয়ে যাচ্ছে। গভীর রাত ও ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েও সুবিধা করতে পারছেন না। গতকাল রাজধানীর আসাদগেটে সোনার বাংলা পাম্পে কথা হয় মোটরসাইকেল চালক মেহেদি হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, সকাল ৮টায় তেল নিতে পাম্পে দাঁড়িয়ে ৯ ঘণ্টা পর বিকাল ৪টায় কিনতে পারেন। শফিকুর রহমান নামের আরেক মোটরসাইকেল চালক গতকাল পরিবাগের মেঘনা পাম্প স্টেশনে ভোর ৬টায় দাঁড়িয়ে দুপুর ৩টায় তেল কিনতে পারেন।

লাইন ছাড়িয়েছে কয়েক মাইল, বাড়ছে যানজট : সরেজমিন সুমাত্রা স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অপেক্ষমান গাড়ির সারি মানিকদি হয়ে ইসিবি চত্বর পার হয়ে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দিকে গেছে। সেখান থেকে লাইন আরও বড় হওয়ায় তা বিপরীত রাস্তায় চলে গেছে। সেই এলাকার দুই পাশের প্রধান সড়কের ওপর প্রাইভেটকার, বাস, পিকআপ ও মোটরসাইকেলের লাইন থাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এ লাইনের জন্য রেডিসন হোটেল থেকে মিরপুরগামী ফ্লাইওভার পেরিয়ে ইসিবি চত্বর পর্যন্ত দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট তৈরি হচ্ছে।

তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন চালক : গরমে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে গাড়িচালকরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নিকুঞ্জ ফিলিং স্টেশনের সামনে কথা হলে প্রাইভেট কারচালক আবু হানিফ বলেন, ‘ভোরে স্যারকে অফিসে নামিয়ে তেল নিতে দাঁড়াইছি। ৫ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। এখনো পাম্পের কাছাকাছিও যেতে পারি নাই। গরমে গাড়ির ভিতর বসে থাকা যাচ্ছে না। বাইরেও প্রচণ্ড রোদ। খাবার পানি শেষ। আশপাশে দোকানও নেই যে পানি কিনে খাব। খুব অসুস্থ লাগছে।’

ক্ষতি কর্মঘণ্টার, নিম্ন আয়ের পেশাজীবীর আয় কমছে : সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে আবদুর সাত্তার নামের এক ডেলিভারিম্যান তেলের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। জানালেন, ৩ ঘণ্টা হয়েছে লাইনে আছেন। গত এক মাসে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানোর কারণে তার আয় অনেক কমে গেছে। আগে দিনে ১০ থেকে ১৫টি অনলাইন পণ্যের ডেলিভারি করতেন, এখন তা চার থেকে পাঁচটিতে নেমে এসেছে। রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল চালকরা জানান, লাইনে দাঁড়িয়েই দিনের বেশির ভাগ সময় নষ্ট হচ্ছে। যে পরিমাণ তেল পাচ্ছেন তা দিয়ে বেশি যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights