ত্বকচর্চায় শঙ্খচূর্ণ

লেখা : নূরজাহান জেবিন

সৌন্দর্য চর্চায় শঙ্খচূর্ণ সব ধরনের ত্বকে মানিয়ে যায়। জানেন কি! এর সাদা গুঁড়ায় থাকে প্রচুর ক্যালসিয়াম এবং নানা ধরনের খনিজ। যেমন আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম। যা ত্বককে নানাভাবে রক্ষা করে সুন্দর ও উজ্জ্বল করে তোলে। তবে সব ধরনের ত্বকে মানানসই হলেও ত্বকের ধরন বুঝে নানাভাবে শঙ্খচূর্ণ ব্যবহার করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রূপচর্চার সামগ্রী হলেও সংবেদনশীল ত্বকের অধিকারীরা সাবধানে শঙ্খচূর্ণ ব্যবহার করবেন। যেহেতু এই গুঁড়া শক্ত শামুকের খোল থেকে তৈরি, ত্বকে ব্যবহারের সময় জোরে ঘষাঘষি না করাই ভালো। সামান্য অসাবধানতায় ত্বক কেটে যেতে পারে। কারও কারও অ্যালার্জিজনিত সমস্যা ও প্রদাহ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ত্বক ফুলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটতে পারে। এমন হলে শঙ্খচূর্ণ ব্যবহার বন্ধ করে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শুষ্ক ত্বক
শুষ্ক ত্বকে কালচে ছোপ বেশি পড়ে। এ ধরনের দাগ দূর করার জন্য এই প্যাক কাজ করে। ১ টেবিল চামচ শঙ্খচূর্ণ, ২ চা-চামচ আপেল সাইডার ভিনেগার, ৪-৫ ফোঁটা কাঠবাদামের তেল, ভিটামিন সি ট্যাবলেট বা একটি সিভিট গুঁড়া ও সামান্য গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। পরিবর্তন বোঝার জন্য টানা দুই সপ্তাহ ব্যবহার করতে হয়।

তৈলাক্ত ত্বক

যাদের ব্রণ ও ব্ল্যাক হেডসের সমস্যা রয়েছে, তারা ২ টেবিল চামচ তুলসী পাতার রস, ১ টেবিল চামচ শঙ্খের গুঁড়া মিশিয়ে নিতে হবে ভালোভাবে। এবার সামান্য বাদামি চিনি দিয়ে গুলে সারা মুখে মিশ্রণটি লাগাতে হবে। ৫ মিনিট পর একটু ঘষে তুলে ফেলতে হবে। তৈলাক্ত ত্বকে সপ্তাহে এক দিন ও ব্রণযুক্ত ত্বকে প্রতিদিন প্যাকটি লাগালে উপকার পাওয়া যায়। শঙ্খের গুঁড়া ত্বকে ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু দূর করে।

সব ধরনের ত্বক

মাত্র ১ টেবিল চামচ শঙ্খগুঁড়া, লেবুর খোসা বাটা আধা চা-চামচ, ৩-৪ ফোঁটা গ্লিসারিন ও গোলাপজল মিশিয়ে মুখে লাগাতে হয়। ৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন একবার করে প্যাকটি লাগালে রোদের প্রভাবজনিত কালচে ভাব দূর হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights