দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশের তরুণরা: ইউএনএফপিএ

অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের তরুণরা অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান, চরম সংকটে থাকা পাকিস্তান কিংবা প্রতিবেশী ভারতের তরুণদের চেয়েও বাংলাদেশের যুবসমাজের মধ্যে এই মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার হার অনেক বেশি।

বিশ্ব জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। গবেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, দেশের জনসংখ্যা কাঠামোর সবচেয়ে বড় শক্তি জনমিতিক লভ্যাংশকে যদি যথাযথ দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে কাজে লাগানো না যায়, তবে তা অদূর ভবিষ্যতে দেশের জন্য এক বিশাল অর্থনৈতিক ও সামাজিক বোঝায় পরিণত হতে পারে।

জাতিসংঘের এই জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৬৭.২ শতাংশ তরুণ ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বৈষম্য নিয়ে প্রতিনিয়ত উৎকণ্ঠায় ভুগছেন, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ এবং বৈশ্বিক তালিকায় ৭৩টি দেশের মধ্যে দশম। অন্যদিকে ভুটানে এই হার ৬৬.৩ শতাংশ, আফগানিস্তানে ৫৪.৭ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৩.২ শতাংশ এবং ভারতে ৪৭.৪ শতাংশ।

বাংলাদেশের জাতীয় যুব নীতি অনুযায়ী দেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ তরুণ জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যাদেরকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি মনে করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এক দশকে ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ শ্রমবাজারে এলেও কাজ পেয়েছে মাত্র ৮৭ লাখ, যার অর্থ প্রায় অর্ধেক কর্মক্ষম মানুষ কোনো উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু কাগজে-কলমে প্রকল্প নয় বরং বাজারমুখী আধুনিক শিক্ষা এবং দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারলে ২০৪০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে যাওয়া এই জনমিতিক লভ্যাংশের সুযোগ বাংলাদেশ চিরতরে হারাতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights