‘দরকষাকষির কার্ড’ হিসেবে ১৭শ’ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিনি কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে বর্তমানে কোনো ইসরায়েলি জিম্মি না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ১৭শ’ ফিলিস্তিনির মরদেহ আটকে রেখেছে ইসরায়েল। ভবিষ্যতে হতে যাওয়া কোনো জিম্মি বিনিময়ে এগুলোকে ‘দরকষাকষির কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করতেই এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ইসরায়েলি সংবাদপত্র ‘হারেৎজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের প্রধান ডেভিড জিনি এ মরদেহগুলো আটকে রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও তার এই অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে। খবরে বলা হয়, এসব মরদেহের বেশিরভাগই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় জড়িত ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের। তবে এর মধ্যে সাধারণ ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ১৩ জন ইসরায়েলি নাগরিকের মরদেহও রয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অ-যোদ্ধা বা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার মতো কোনো আইনগত বা নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার নীতিতে নেই। এর আগে গত বছরের জুলাইয়ে জিইএসএইচএ নামে একটি মানবাধিকার সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল স্বীকার করে যে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তার হওয়া এক ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রীর মরদেহ তাদের হেফাজতে রয়েছে, যিনি গ্রেপ্তারের একদিন পরেই মারা যান। তবে মৃত্যুর তারিখ, স্থান বা এর সঠিক কারণ পরিবারকে জানানো হয়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী মৃতদেহের সম্মানজনক দাফন এবং ধর্মীয় রীতি পালনের স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা থাকলেও ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের মরদেহ আটকে রাখার বিতর্কিত নীতি বাস্তবায়ন করে আসছে। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সব বন্দি ও মরদেহ বিনিময়ের কথা বলা হলেও ইসরায়েল এখনো শতাধিক ফিলিস্তিনির দেহ আটকে রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র: মিডলইস্ট আই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights