দিনাজপুরে কৃষকদের ধান সরবরাহে অনীহা সরকারী সংগ্রহ অভিযানে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাধা

আব্দুস সালাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি \ দিনাজপুরের কৃষকরা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে বেশি দাম পাওয়ায় সরকারী
খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে অনাগ্রহী। এতে চলতি আমন সংগ্রহ অভিযানের দেড় মাস পরও কৃষকদের কাছ থেকে নির্ধারিত
লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪ শতাংশ ধান সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। তবে মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহের হার ৪০ শতাংশ।
দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, চলতি আমন মৌসুমে ৩৩ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে
১৭,৯৯১ মেট্রিক টন ধান এবং মিল মালিকদের কাছ থেকে সিদ্ধ ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২৬
ডিসেম্বর পর্যন্ত কৃষকদের কাছ থেকে মাত্র ৮০০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ হয়েছে। অন্যদিকে, মিল মালিকদের কাছ থেকে সিদ্ধ চাল
১৮,৫৯৪ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৩,৪৮৬ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে।
দিনাজপুরের বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে জানা গেছে, বর্তমানে বাজারে মোটা জাতের ধান প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ১,৩৫০ থেকে ১,৪০০
টাকা দরে, যা প্রতি কেজিতে ৩৪-৩৫ টাকা। সরকারি নির্ধারিত ৩৩ টাকা কেজি দামের তুলনায় এটি বেশি। ফলে কৃষকরা সরাসরি
বাজারে ধান বিক্রি করতে আগ্রহী।
বিরল উপজেলার কৃষক আবুল হোসেন হোসেন বলেন, যেখানে বাজারে বেশি দাম পাওয়া যায়, সেখানে সরকারী গুদামে ধান দেয়ার
কোনো যুক্তি নেই।
দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের কৃষক মঈনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকারী গুদামে ধান সরবরাহ করতে গেলে
সময়ক্ষেপণ ও হয়রানির শিকার হতে হয়। নগদ অর্থের বদলে ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করায় কৃষকদের জন্য এটি বেশ
ঝামেলাপূর্ণ। তিনি বলেন, সরকার যদি কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে চায়, তবে সরাসরি নগদ অর্থে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করতে
হবে।
গত বোরো সংগ্রহ অভিযানে দিনাজপুর জেলা খাদ্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম ধান ও চাল সংগ্রহ করতে পেরেছে। কৃষকদের
কাছ থেকে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪,৯৫১ মেট্রিক টন, তবে সংগ্রহ হয়েছে ১১,৩১০ মেট্রিক টন। মিল মালিকদের কাছ থেকে সিদ্ধ চাল
সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১,০২,৩৩৫ মেট্রিক টন, তবে সংগ্রহ হয়েছে ৯১,৬২১ মেট্রিক টন।
কৃষকরা সরাসরি নগদ অর্থে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা এবং হয়রানিমুক্ত প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
হলে সরকারী সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্য সফল হতে পারে।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী আশাবাদী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে লক্ষ্যমাত্রার পুরো ধান সংগ্রহ
করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য কৃষকদের ন্যায্যমূল্য ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights