দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে আমিরাতের স্কুলগুলোতে ক্লাসে ফিরল শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কারণে দীর্ঘ বিরতির পর অবশেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে খুলেছে স্কুলগুলো। যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে আজ সোমবার থেকে সশরীরে পাঠদান শুরু হয়েছে, ফলে শিক্ষাঙ্গনে ফিরছে প্রাণচাঞ্চল্য।

এদিন ভোর থেকেই বিভিন্ন স্কুলের গেটে সন্তানদের নামিয়ে দিতে অভিভাবকদের ভিড় দেখা যায়। দীর্ঘদিন পর রাস্তায় আবার চলতে শুরু করেছে হলুদ রঙের স্কুল বাস, যার ফলে শহরের সড়কগুলোতেও বেড়েছে যানবাহনের চাপ।

এসময় শিক্ষার্থীদের অনেককে হাসিখুশি মুখে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তারা সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছে, ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো।

দেশটির নলেজ অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি কেএইচডিএর পরিদর্শন ও অনুমোদনের পর অধিকাংশ স্কুল সশরীরে ক্লাস চালু করেছে। কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে ধাপে ধাপে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু স্কুলে এখনো অনলাইন ক্লাস চালু রয়েছে।

দেশটিতে স্কুল খোলার আগে বিস্তারিত ঝুঁকি মূল্যায়ন, আইনি নির্দেশনা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসগুলোতে এখন নির্ধারিত নিরাপত্তা পদ্ধতি চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ স্থানে অবস্থান, বিপরীতমুখী স্থানান্তর এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা। এছাড়াও প্রতিটি স্কুলে নির্ধারিত নিরাপদ এলাকা ও সমাবেশ পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে। নিয়ন্ত্রিত চলাচল ও সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে হাইব্রিড বা রোটেশনাল পদ্ধতিতে পাঠদান চালুর সুযোগ রাখা হয়েছে, যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতেও শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

দেশটিতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতকালীন নিরাপত্তা প্রোটোকলও নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো সতর্কবার্তা জারি হলে অভিভাবকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর শিক্ষার্থীরা যদি তখন ক্যাম্পাসে থাকে, তবে তাদের নির্ধারিত নিরাপদ স্থানে রাখা হবে। এছাড়াও ছুটির সময় সতর্কবার্তা জারি হলে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসেই অবস্থান করতে হবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না।

সূত্র: খালিজ টাইমস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights