দুই টন ওজনের মিসাইল দিয়ে ইসরায়েলে হামলার দাবি ইরানের

অনলাইন ডেস্ক

সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকা এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ৫৮তম দফার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার সকালে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এর আওতায় পরিচালিত এই অভিযানে লক্ষ্যভেদী সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে আইআরজিসির এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।

এবারের বিশেষ এই অভিযানটি রমজান যুদ্ধের সকল শহীদ শিশু, বিশেষ করে মিনাব স্কুল হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী এবং গত রাতে আরাক শহরে পরিবারের সাথে নিহত তিন দিনের শিশু মোজতাবার স্মৃতির স্মরণে উৎসর্গ করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, এই বিশাল অভিযানে তারা দুই টন ওজনের ওয়ারহেড সমৃদ্ধ খোররামশাহর ক্ষেপণাস্ত্র, বহুমুখী ওয়ারহেড যুক্ত গদর, এবং অত্যাধুনিক ফাত্তাহ ও খেইবার শেকান ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এছাড়াও ফাতেহ ও কিয়াম নামক মধ্যম পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি একঝাঁক বিধ্বংসী ড্রোন এই অভিযানে মোতায়েন করা হয়।

হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলি ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের নাহারিয়া, বেইত শেমেশ, তেল আবিব এবং পশ্চিম কুদসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা। একই সঙ্গে ভিক্টোরিয়া, আলী আল সালেম ও আল খারজ নামক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের অবস্থানেও ব্যাপক আঘাত হানা হয়েছে।

ইরানের এই প্রবল পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে অধিকৃত অঞ্চলগুলোতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তেল আবিব, আশদোদ ও বাত ইয়ামসহ প্রায় ১৩৬টি স্থানে অবিরাম সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজতে থাকে। জনতাত্ত্বিক হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে প্রায় ৪৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights