দুজনের বন্ধুত্ব ছিল, তবে পালিয়ে যাওয়ার কথা না: যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর ভাই
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পিএইচডিতে অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ হওয়া ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির সন্ধান পেতে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ । বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মায়ামি থেকেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে । প্রায় নয় পেরিয়ে গেলেও এখনও লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে দেশে বসবাসরত তাদের পরিবারের-স্বজনদের ।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নিখোঁজ জাহিদ লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ জানান, দেশে থাকা অবস্থায় লিমন এবং বৃষ্টির জানাশোনা ছিল, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল । তবে তারা পালিয়ে যাওয়ার মতো মানুষ নন। বিশেষ করে লিমনের থিসিস জমা দেয়ার শেষ সময় ঘনিয়ে আসছিল। তিনি জানান, আমার ভাইকে যতটুকু জানি, তার পক্ষে এমনটা করা একেবারেই অসম্ভব। গত দুই বছর ধরে লিমন তার থিসিসের জন্য কাজ করেছে, যার সাবমিশন সামনেই ছিল। এমন অবস্থায় সে হুট করে কোথাও হারিয়ে যাবে না বলে তার বিশ্বাস ।
এখন পর্যন্ত কোনো ক্লু (সূত্র) না পাওয়ায় দুই শিক্ষার্থীর পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে । জুবায়ের বলেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের এবং আমরা খুব যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করছি। কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো ইঙ্গিত দিতে পারেনি যে আসলে কী ঘটেছে।
এদিকে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, মায়ামির কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন জানিয়েছেন, নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থীর ব্যাপারে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ওয়াশিংটন ডিসির দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে অবহিত করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কনসুলেট জেনারেল অফিসের এক কর্মকর্তা মার্কিন কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে টাম্পায় যান, সেখানে বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কনসাল জেনারেল সেহেলী সাবরীন জানান দুই শিক্ষার্থীর সন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এক যোগে কাজ করছে।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান নীতি বিষয়ের ডক্টরাল শিক্ষার্থী লিমনকে শেষবার ১৬ এপ্রিল ৯টার দিকে টাম্পায় তার বাসভবনে দেখা গিয়েছিল। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরাল শিক্ষার্থী বৃষ্টিকে শেষবার দেখা গিয়েছিল সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের বিল্ডিংয়ে। পুলিশের ধারণা, তারা দুজন বন্ধু এবং সম্ভবত একসঙ্গেই আছেন। পুলিশ বিভাগের পক্ষ হতে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং আইসিই’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তবে তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্ট করার মতো কোনো তথ্য কিংবা কোনো সহিংসতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আলামত মেলেনি।
জামালপুর জেলার জামিল লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং মাদারীপুরের নাহিদা বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন । তারা ২০২৪ সালে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাড়ি জমান।
সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর
