ধর্ষণের অভিযোগে তদন্তের মুখে কেপ ভার্দের অধিনায়ক

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজেদের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচটি খেলার অপেক্ষায় রয়েছে কেপ ভার্দে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ বত্রিশের (রাউন্ড অব থার্টি টু) এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের ঠিক আগমুহূর্তে, এক চরম অস্বস্তিতে পড়েছে আফ্রিকান দলটি।

দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান দৈনিক ‘ও গ্লোবো’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে তার।

মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে খোদ অধিনায়কের এমন আইনি জটিলতা ও শাস্তির শঙ্কা কেপ ভার্দে শিবিরের মনোবলে বড় এক ধাক্কা দিয়েছে, যা পুরো দলকে ঠেলে দিয়েছে চরম উৎকণ্ঠার মুখে।

ঘটনাটি গত মার্চ মাসের। সে সময় নিউজিল্যান্ডে চিলি ও কেপ ভার্দেকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। কেপ ভার্দে দলের ভাষাগত সুবিধার জন্য একজন ব্রাজিলিয়ান নারীকে দোভাষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই নারী মেন্দেসের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, কেপ ভার্দে দল যে হোটেলে অবস্থান করছিল, সেখানে একটি কক্ষের অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে যান।

কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক নয়; বরং একটি পার্টি। একপর্যায়ে শরীর খারাপ লাগায় তিনি নিজের কক্ষে ফিরে যান। এরপর মেন্দেস তার কক্ষে এসে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন এবং তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।

তুরস্কের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব ইগদির এফকেতে খেলা ৩৬ বছর বয়সী মেন্দেসের বিরুদ্ধে গত ১০ এপ্রিল অকল্যান্ডের আদালতে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর গত মাসে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নিউজিল্যান্ড ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফাকে জানায়। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু প্র্যাগনেল জানিয়েছেন, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী প্রথমে কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখান থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি পরে স্থানীয় পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগেরই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর।

নিউজিল্যান্ডের আইনে যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধের শাস্তি কঠোর। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেন্দেসের সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

একদিকে বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে স্বপ্নের ম্যাচ খেলার রোমাঞ্চ, অন্যদিকে অধিনায়কের এই অন্ধকার অধ্যায়—সব মিলিয়ে এক চরম টানাপোড়েনের মধ্যেই পড়ে গেল কেপ ভার্দে ফুটবল দল।

তবে এ বিষয়ে মেন্দেস, তার আইনজীবী কিংবা কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার কথা ও’গ্লোবোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights