নাজমুলের টার্গেট শীর্ষ পাঁচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
অনুশীলন শেষে সতীর্থরা সবাই সাজঘরে ঢুকছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ব্যাটিং শেষে হেড কোচ ফিল সিমন্স, সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল ও স্পিন কোচ মুশতাক আহমেদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হয়তো আজ শুরু মিরপুর টেস্টের পরিকল্পনা করছিলেন। উইকেট দেখে একাদশ সাজানোর কথা বলেছিলেন। ১৫-২০ মিনিট কথা বলে সাজঘরে ঢুকে পড়েন নাজমুল। মিনিট দশেকের মধ্যে টেস্ট পোশাকের ওপর বাংলাদেশ দলের ব্লেজার পরে ফের মাঠে ঢোকেন। প্রায় একই সময় পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ একই পোশাকে মাঠে ঢোকেন। এরপর দুজনে ভিআইপি গ্যালারির সামনে পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে দুই টেস্ট ম্যাচ সিরিজের ট্রফি উন্মোচন করেন। দুই বছর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে দেশটিকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। আত্মবিশ্বাস নিয়ে নাজমুলরা এবার ঘরের মাঠে দুই ম্যাচ সিরিজ খেলবে। ঘরের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ এবং সর্বোপরি অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিততে চান টাইগার অধিনায়ক নাজমুল, ‘গত সিরিজটায় আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছিলাম। সেটা অতীত। ওই সিরিজ জয় অবশ্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। কিন্তু ফল পেতে এই সিরিজে আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। প্রত্যেকটা দিন ভালো ক্রিকেট খেললে ফল আমাদের পক্ষে আসবে। রেকর্ড নিয়ে চিন্তা করছি না। প্রত্যেকটা দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলা গুরুত্বপূর্ণ।’
গত মার্চে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ খেলে গেছে পাকিস্তান। এক মাসের ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ খেলতে আসছে। দুই দেশ এখন পর্যন্ত ৭টি টেস্ট সিরিজ খেলেছে পরস্পরের বিপক্ষে। পাকিস্তানের ছয় জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশ জিতেছে একটি। ১৫ টেস্টের দুটি জিতেছে বাংলাদেশ, ১২টি পাকিস্তান এবং একটি ড্র হয়েছে। চলতি বছর এই প্রথম টেস্ট খেলবেন নাজমুলরা। এ বছর আরও কয়েকটি টেস্ট সিরিজ খেলবে। ২০২৫-২৭ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ মাত্র দুটি টেস্ট খেলেছে। একটি ড্র, একটিতে হার। ৯ দলের চ্যাম্পিয়নশিপে নাজমুল বাহিনী এখন আট নম্বরে। টাইগার অধিনায়ক নাজমুলের টার্গেট চলতি চ্যাম্পিয়নশিপে ৪-৫ নম্বরে থাকা, ‘গত দুই বছর আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আগেরবার আমরা সাত নম্বরে শেষ করেছি। আমার মনে হয় এটা ভালো একটা অর্জন। আস্তে আস্তে এই জায়গাটাতে উন্নতি হচ্ছে, যেটা এর আগের চক্রগুলোতে হয়নি। এ বছর লক্ষ্য, আর একটু ভালো পারফর্ম করে চার-পাঁচ নম্বরে থাকা। এ রকমই যদি শেষ করতে পারি, খুবই ভালো লাগবে।’
চাইলেই চার-পাঁচ নম্বরে থাকা কঠিন। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কার মতো দল রয়েছে। তাদের টপকে চার-পাঁচ নম্বরে থাকা অনেক কঠিন। সামনে অস্ট্রেলিয়া, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ রয়েছে। আগামী দিনগুলো অনেক চ্যালেঞ্জিং মনে করেন টাইগার অধিনায়ক, ‘আগামীর দিনগুলোতে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর অনেক কঠিন হবে। আমি মনে করি যে সিরিজগুলো আমরা ঘরের মাঠে খেলব, সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিপক্ষের শক্তি অনুযায়ী আমরা ওই ধরনের কন্ডিশন তৈরি করার চেষ্টা করব, বিশেষ করে উইকেটের ক্ষেত্রে।’ মিরপুরের উইকেট কি বরাবরের মতো স্পিন নির্ভর হবে? কোচ সিমন্স বলেছেন উইকেট ভালো। পাকিস্তানের পেসার শাহিন আফ্রিদি বলেছেন উইকেট প্রাণবন্ত। উইকেট কিংবা প্রতিপক্ষ যেমনই হোক নিজের দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসী টাইগার অধিনায়ক, ‘এখন যেটা বললাম, আমাদের দলটা খুব ব্যালেন্সড। পেস বোলিং স্পিন বোলিং এবং ব্যাটসম্যান, সব মিলিয়ে। এ জায়গাটা থেকে আমাদের জন্য খুবই সহজ আমরা আসলে কী ধরনের উইকেট বা কী ধরনের কন্ডিশনে খেললে ভালো।’ দুই বছর আগে বাংলাদেশ দলের প্রস্তুতি ভালো ছিল। এবার প্রস্তুতি হয়েছে সাদা বল খেলে। এ বছর প্রথমবার টেস্ট খেলবে।
