নারী সংকটে চীন, বিয়ে করতে গিয়ে নানা প্রতারণার ফাঁদে পুরুষ

অনলাইন ডেস্ক

দশকব্যাপী এক সন্তান নীতির কারণে চীনে নারীদের তুলনায় পুরুষের সংখ্যা প্রায় তিন কোটি বেশি। এর মধ্যে দেশটিতে বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজতে গিয়ে প্রতারিত হচ্ছেন পুরুষরা। তীব্র লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা এবং উচ্চ ‘ব্রাইড প্রাইস’ বা যৌতুকের সংস্কৃতির সুযোগ নিয়ে গড়ে উঠেছে প্রতারক ম্যাচমেকিং বা ঘটকালি চক্র।

অল্প সময়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দেশটির হাজার হাজারো নিঃসঙ্গ পুরুষকে সর্বস্বান্ত করা হচ্ছে। এই প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্ব হারানোর পাশাপাশি মানসিক অবসাদে ভুগছেন অনেক চীনা পুরুষ।

দেশটির ছোট শহর ও গ্রামীণ এলাকার অবিবাহিত পুরুষদের জন্য পাত্রী পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সুযোগে গুইঝৌ প্রদেশের মতো অঞ্চলগুলোতে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন এজেন্সি। এ সব এজেন্সি দ্রুত বিয়ের মাধ্যমে ভালো স্ত্রী পাওয়ার লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেয়। মূলত মধ্যপ্রদেশ বা অন্যান্য এলাকা থেকে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল কিন্তু পাত্র সংকটে থাকা পুরুষদের টার্গেট করে এই চক্রগুলো। ভুক্তভোগীরা মোটা অঙ্কের টাকা ও যৌতুক দিয়ে এসব এজেন্সির মাধ্যমে বিয়ে করে। কিছুদিন পরই অনেক কনে অর্থ বা গহনা নিয়ে পালিয়ে যান অথবা তাদের অতীত জালিয়াতির তথ্য সামনে আসে।

ওয়াং জুয়াং নামের ৩৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি গুইঝৌর একটি এজেন্সির মাধ্যমে তিন লক্ষাধিক ইউয়ান খরচ করে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই তিনি জানতে পারেন যে তার স্ত্রী ইতিপূর্বে তিনবার বিবাহিত, তিন সন্তানের জননী এবং গুরুতর রোগে আক্রান্ত। প্রতারিত হওয়ার পর তিনি ডিভোর্সের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন এবং তার মতো আরও বহু ভুক্তভোগীকে নিয়ে গঠিত একটি প্লাটফর্ম থেকে অন্যদের সতর্ক করার কাজ করছেন।

আরেকটি ঘটনায়, ৫৯ বছর বয়সী শু রুলিন তার ছেলের বিয়ের জন্য প্রায় পাঁচ লাখ ইউয়ান খরচ করেন। কিন্তু কনে মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই পালিয়ে যায়। বিয়ে নিয়ে এমন ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যাপক জনরোষ তৈরি হয়। প্রতারণার অভিযোগ বাড়তে থাকায় নড়েচড়ে বসে বেইজিং প্রশাসন।

২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত এ ধরনের অপরাধে জড়িত প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি দেশটির পাঁচটি সরকারি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে ম্যাচমেকিং শিল্পে দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। তবে আইনি জটিলতা এবং নির্দিষ্ট কোনো অপরাধের ধারা না থাকায় এই ধরনের প্রতারণার বিচার করা এবং খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধার করা বেশ কঠিন বলে জানান আইনজীবীরা।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights