নিখুঁত ও দ্রুতগতির ফুটবলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে ফ্রান্স

আসিফ ইকবাল

সত্তর দশকে রক্ষণভাগ, মধ্যমাঠ ও আক্রমণভাগের মিশেলে অলআউট ফুটবল খেলত নেদারল্যান্ডস। আক্রমণাত্মক মেজাজে ধ্রুপদি ফুটবল খেলতেন ইয়োহান ক্রুইফ, ইয়োহান নিসকেন্সরা। ডাচ ফুটবলকে তখন বলা হতো ‘টোটাল ফুটবল’। ১৯৭৪ ও ১৯৭৮ সালে টোটাল ফুটবল খেলে টানা দুটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিল টিউলিপ ফুলের দেশ নেদারল্যান্ডস। পাঁচ দশক পর মাইকেল ওলিসে, কিলিয়ান এমবাপ্পেরা টোটাল ফুটবল খেলছেন। বরং আরও নিখুঁত, তীক্ষè, গতিশীল ও পরিকল্পনায় রোবোটিক ফুটবল খেলছে ফ্রান্স। ফুটবল যে শিল্প, সুইডেন ম্যাচে সেটা পরিষ্কারভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে কোনো দলই প্রাচীর হয়ে উঠতে পারছে না এবার। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশ সুইডেন গতকাল ‘রাউন্ড থার্টি টু’ ম্যাচে কোনো রকমের লড়াই করতে পারেনি। গতির সঙ্গে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে এমবাপ্পের জোড়া গোল ও ব্র্যাডলি বার্কোলার এক গোলে সুইডেনকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে ‘রাউন্ড সিক্সটিন’ বা প্রি কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। নকআউটে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ লাতিন আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে। লাতিন দলটি রাউন্ড থার্টি টু-তে টাইব্রেকারে বিদায় করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। চলতি বিশ্বকাপে সুইডিশদের বিপক্ষে জোড়া গোলে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির পাশে নাম লিখেছেন এমবাপ্পে। দুজনের গোল এখন ৬টি করে। ৫ গোল করে ঠিক পেছনে নরওয়ের আরলিং হলান্ড। ৬টি বিশ্বকাপ খেলে এখন পর্যন্ত মেসির মোট গোল ১৯টি। তিনটি বিশ্বকাপে এমবাপ্পের গোল ১৮টি। নিউজার্সি স্টেডিয়ামে এমবাপ্পের হ্যাটট্রিক হতেই পারত! যদি না একটি গোল অফসাইডে বাতিল হতো। কিংবা আরও একটি বল সাইড বারে না লাগত। কোচ মাঠ তুলে নেওয়ার আগে পর্যন্ত এমবাপ্পেই ছিলেন ম্যাচের নায়ক। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি গোল মিস করে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এমবাপ্পের একটি গোল অফসাইডের অজুহাতে বাতিল করেন রেফারি। ৩১ মিনিটে তার আরও একটি শট সুইডিশ গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও সাইড বারে লেগে বাইরে চলে যায়। নিশ্চিত গোল বঞ্চিত হয় ফ্রান্স ও এমবাপ্পে। ৩৫ মিনিটে ওলিসের ব্যাকভলি গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও সাইড বারে লাগে। ফিরতি বলে দেম্বেলের শট সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। অবশেষে ৪৪ মিনিটে প্রায় একক প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত সোয়ার্ভিং শটে গোল করেন ফরাসি অধিনায়ক (১-০)। গোল করে এমবাপ্পে ছুটে যান কোচ দেশমের দিকে। সদ্য মাতৃহারা শোকাতুর কোচ তাকে বুকে টেনে নেন। ফ্রান্সের লিডে শেষ হয় প্রথমার্ধ। পুরো ম্যাচে কম্পিউটার ফুটবল খেলা ফ্রান্স ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় দ্বিতীয়ার্ধে। ম্যাচের ৫২ মিনিটে ব্যবধান ২-০ করে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ৫২ মিনিটে ডি বক্স থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে গোলটি করেন বার্কোলা। ৭৪ মিনিটে ম্যাচের ৩-০ করে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রি কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। ম্যাচের জয়ের পর উচ্ছ্বসিত এমবাপ্পে বলেন, ‘আসরে মেসি আরও গোল করুক। কিন্তু আমি বিশ্বকাপ জিততে চাই।’ কোচ দেশমের এটাই শেষ বিশ্বকাপ। ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ উপহার দিয়েছিলেন। এরপর কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জেতেন ২০১৮ সালে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে তার কোচিংয়ে ফাইনাল খেলে। যদিও টাইব্রেকারে হেরে যায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। বিশ্বকাপ শেষে অবসর নিয়েছিলেন দেশম। ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধে পুনরায় দায়িত্ব নেন দেশটির। তার কোচিংয়ে কম্পিউটার ফুটবল খেলছে ফ্রান্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights