নিরাপদ ট্রেন জনবলসংকটে অনিরাপদ
ইমরান এমি, চট্টগ্রাম
আরাম ও নিরাপদ যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ট্রেনের জুড়ি মেলা ভার। তবে নিরাপত্তার আড়ালে এখন এই বাহনে চুরি, ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটছে। আর মাদক কারবারিরাও এই বাহনকে ব্যবহার করছে। ফলে যাত্রীদের কাছে অনিরাপদের সঙ্গে সঙ্গে ভয়েরও কারণ হয়ে উঠছে।
চলতি বছরে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টি চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আর অভিযান চালালেই মাদকের চালান ধরা পড়ছে। সর্বশেষ ৪ আগস্ট চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের এক স্টুয়ার্ডের কাছ থেকে ৪ হাজার ৮৫০টি ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাব। তবে রেল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা সব সময় নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর জনবল সংকটের জন্য তা দেওয়া যাচ্ছে না। অথচ রেলের সম্পত্তি তথা ট্রেনের নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর-আরএনবি। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল না থাকার কারণে বিশেষায়িত বাহিনীটিও চুরি-ছিনতাই ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে আরএনবির অনুমোদিত জনবল রয়েছে ১ হাজার ৯৯২টি। এর বিপরীতে ১ হাজার ৬৪ জন দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। গত ৮ বছর ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় এবং অবসর গ্রহণের কারণে প্রতিনিয়ত এই সংখ্যা আরও কমছে। এতে ট্রেন যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, স্টেশন এলাকায় অবস্থান করা যাত্রীদের কাছ থেকে মোবাইল, ব্যাগসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে চোরচক্রের সদস্যরা। ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কিংবা আরএনবি সদস্যদের জানানো হলেও প্রায় সময় এসব জিনিসপত্রের হদিস মিলছে না।
জানা যায়, আরএনবির অনুমোদিত জনবল কাঠামোর বিপরীতে ৪৬ শতাংশ পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৮ সালে মাত্র ১৮৫ জন নতুন নিয়োগ হয়। এরপর কয়েকবার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হলেও ওই সময় নানা জটিলতার কারণে আটকে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান সরকার রেলপথকে আধুনিকভাবে ঢেলে সাজাতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কিন্তু যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর শূন্যপদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ না দিলে বিদ্যমান ঝুঁকি থেকেই যাবে। প্রশাসনিক জটিলতা, নীতিমালার পরিবর্তন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো নতুন সদস্য নিয়োগ সম্ভব হচ্ছে না। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আরএনবির নিয়োগবিধি নিয়ে সমস্যা থাকার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে প্রায় ছয় বছর। কোন কারণে এই নিয়োগ বন্ধ রয়েছে তা তিনি জানাতে রাজি হননি। তিনি এ ব্যাপারে আরএনবির পূর্বাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্টের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। তবে এ চিফ কমান্ড্যান্ট মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
