নিলামযোগ্য কনটেইনারে ন্যুব্জ চট্টগ্রাম বন্দর
মজুমদার নাজিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম বন্দরে বাড়ছে নিলামযোগ্য কনটেইনারের সংখ্যা। দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দরে পড়ে আছে আমদানির পর ডেলিভারি না নেওয়া প্রায় ১০ হাজার কনটেইনার। যা দখল করে রেখেছে ইয়ার্ডের বড় অংশ। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। নিলামে ধীরগতির কারণে কনটেইনারের সংখ্যা বেড়ে চলেছে।
বন্দরের তথ্যমতে, ২০ ডিসেম্বর নিলাম ও ধ্বংসযোগ্য কনটেইনারের সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৯৭২ টিইইউএস (২০ ফুট সমমান)। এসব কনটেইনারের ভিতরে রয়েছে ১ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি পণ্য। একই সময় পর্যন্ত মোট কনটেইনারের সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার। এ ছাড়া বিভিন্ন শেডে দীর্ঘদিন পড়ে আছে ৩ হাজার ৫৬০ টন এলসিএল এবং ৫ হাজার ৪৪৩ টন বাল্ক কার্গো (খোলা পণ্য)। ২০০৪ সাল থেকে ২০ বছর এসব কনটেইনার-পণ্য জমেছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ডেলিভারি না নেওয়া কনটেইনার নিলাম অথবা ধ্বংস করতে আমরা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দিচ্ছি। তারা কিছু নিলামে তুলছে, কিছু ধ্বংস করছে। যে হারে জমছে তার তুলনায় নিলাম ও ধ্বংস কার্যক্রম ধীর। গতি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। রাতারাতি এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। কিছুটা সময় লাগবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক সময় শুল্কসহ আইনি জটিলতায় বন্দরে পণ্যের চালান আটকে থাকে। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলে আমদানি খরচের সঙ্গে যোগ হয় বড় অঙ্কের ডেমারেজ চার্জ। তা পরিশোধ করে পণ্য ডেলিভারি নিলে আমদানিকারককে পড়তে হয় লোকসানের মুখে।
এ অবস্থায় আমদানিকারকরা ডেলিভারি নিতে আগ্রহী হন না। আমদানির পর বাজার দর পড়ে গেলে লোকসানের ভয়ে পণ্য ডেলিভারি না নিয়ে বন্দরেই ফেলে রাখেন অনেক আমদানিকারক। নিয়মানুযায়ী আমদানি করা পণ্যবোঝাই কনটেইনার নির্ধারিত চার্জ পরিশোধ করে ৩০ দিন পর্যন্ত বন্দরের ইয়ার্ডে রাখা যায়। এ সময়ের মধ্যে আমদানিকারক পণ্য খালাস না করলে বন্দর কর্তৃপক্ষ আমদানির কাগজপত্র তুলে দেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হাতে। কাস্টমস আমদানিকারককে আরও ১৫ দিনের সময় দিয়ে এর মধ্যে ডেলিভারি নিতে চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পরও ডেলিভারি না নিলে তা বিক্রির জন্য নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ধ্বংস করা হয় ব্যবহার অনুপযোগী পণ্য। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অনেক পণ্য চালানের বিপরীতে মামলা থাকায় নিলামে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। আবার নিলামেরও কিছু প্রক্রিয়াগত দিক আছে। প্রথমবার উপযুক্ত দর না পেলে দ্বিতীয়বার নিলাম ডাকতে হয়। সে ক্ষেত্রে প্রথমবারের চেয়ে বেশি দর না পেলে তৃতীয় দফা নিলাম ডাকার প্রয়োজন পড়ে। এভাবে লম্বা একটা সময় ব্যয় হয়।
