নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন আনচেলত্তি

স্পোর্টস ডেস্ক
ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারের নাম ঘোষণার পর থেকেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে সমর্থকরা। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসংখ্য ভিডিওতে দেখা গেছে, টিভির সামনে কিংবা বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনে থাকা ভক্তরা তার নাম শুনেই উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। রিও ডি জেনেইরোতে স্কোয়াড ঘোষণার অনুষ্ঠানেও ছিল একই দৃশ্য। এমনকি নেইমারের নাম ঘোষণার পর মুহূর্তের জন্য থেমে যেতে হয় ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে।

সমর্থকদের প্রবল চাওয়া এবং নেইমারকে ঘিরে আবেগের মাত্রা দেখে প্রশ্ন উঠেছে, জনপ্রিয়তার কারণেই কি তাকে দলে নেওয়া হয়েছে? তবে আনচেলত্তি স্পষ্ট করেছেন, সিদ্ধান্তের মূল কারণ ছিল নেইমারের ফিটনেস ও অভিজ্ঞতা।

দল ঘোষণার পর ব্রাজিল কোচ বলেন,‘সে তার ফিটনেস উন্নত করেছে। এই বিশ্বকাপে দলের একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন,‘বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে পর্যন্ত সে ফিটনেসে আরও উন্নতি করতে পারে। এই ধরনের প্রতিযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা আছে, আমাদের দলের ভালোবাসা আছে তার প্রতি। সে এই দলে আরও ভালো আবহ তৈরি করতে পারবে।’

২০২৩ সালের অক্টোবরে গুরুতর চোটে পড়ার পর এবারই প্রথম জাতীয় দলে ফিরলেন ১২৮ ম্যাচ খেলা নেইমার। এক বছর আগে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তাকে দলে ডাকলেন আনচেলত্তি।

দল ঘোষণার আগেই অবশ্য নেইমারের ফেরার ইঙ্গিত মিলেছিল। স্কোয়াড ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে নিজের ইনস্টাগ্রাম বায়োতে পরিবর্তন আনেন তিনি। আগে যেখানে শুধু ক্লাব সান্তোসের নাম ছিল, সেখানে নতুন করে যোগ করেন ব্রাজিলের নামও।

এদিকে চোটের কারণে আগেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন এদের মিলিতাও, রদ্রিগো ও এস্তেভোঁ। ফলে স্কোয়াড নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে নেইমারকে ঘিরেই। উল্লেখযোগ্যভাবে বাদ পড়েছেন জোয়াও পেদ্রো।

চেলসির হয়ে ভালো মৌসুম কাটানো এই ফরোয়ার্ডকে দলে না রাখতে পারায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন আনচেলত্তি।

তিনি বলেন,‘বিশ্বাস করুন, জোয়াও পেদ্রোর জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে। এই মৌসুমে সে যেভাবে খেলছে, তাতে সম্ভবত বিশ্বকাপে যাওয়া উচিত ছিল তার।’

আরও বলেন,‘তবে, সবিনয়ে বলছি, জায়গা নিয়ে এত প্রতিযোগিতার মধ্যে, আমরা তার আগে অন্য খেলোয়াড়দের বেছে নিয়েছি… কিন্তু জোয়াও পেদ্রোর জন্য আমাদের সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। আমি দুঃখিত।’

স্কোয়াড নির্বাচনকে কঠিন সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে আনচেলত্তি বলেন,‘২৬ জন ফুটবলার বাছাই করা খুব কঠিন ছিল, কারণ এই দেশে জায়গার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি। কিছু ফুটবলারকে এই তালিকার বাইরে থাকতেই হবে। আমি খুবই দুঃখিত এবং তাদের প্রচেষ্টার জন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

শেষে দলের সামগ্রিক মানসিকতার ওপর আস্থা রেখে তিনি বলেন,‘আমরা বিশ্বাস করি, এই দলটি জাতীয় দলের হয়ে মানসম্মত ফুটবল খেলতে সক্ষম, যাদের মধ্যে রয়েছে অসাধারণ সম্মিলিত চেতনা, মনোভাব এবং একাগ্রতা। আমি জানি এটি নিখুঁত তালিকা নয়, কিন্তু নিখুঁত দল বলে কিছু হয় না।’

আগামী ১৩ জুন ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ‘সি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights