নোবেল পদক দিয়েও ট্রাম্পের মন পেলেন না মাচাদো

অনলাইন ডেস্ক

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেছিলেন এমন একটি উপহার নিয়ে যা ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। অর্থাৎ নোবেল শান্তি পুরস্কার। গণতন্ত্র জোরদারের ক্যাম্পেইনের জন্য গত বছর পাওয়া সেই পদকটি তিনি ট্রাম্পকে উপহার দেন। তবে এই প্রতীকী উপহারও ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ে কার্যকর হয়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায় মাচাদো আশা করেছিলেন এই পদক তাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু এনে দিতে পারে। বিশেষ করে মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট সমর্থন। কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প ব্র্যান্ডের একটি উপহারের ব্যাগ হাতে মাচাদোকে ছবি তুলতে দেখা যায়। তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে কোনো নতুন ইঙ্গিত মেলেনি।

মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাচাদো অন্যতম নাম হলেও ট্রাম্প দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দিয়ে আসছেন। শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রদ্রিগেজকে সমর্থনের বিষয়টি মাদুরোবিরোধী অনেককেই বিস্মিত করেছে।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা যায় ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন মাচাদো। ট্রাম্পের হাতে একটি বড় সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ফলক যেখানে নোবেল পদকটি সংযুক্ত এবং একটি উৎসর্গবার্তা লেখা আছে। সেখানে বলা হয় ভেনেজুয়েলার মুক্তি নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিগত ও দৃঢ় পদক্ষেপের স্বীকৃতিস্বরূপ এই উপহার দেওয়া হয়েছে।

পরে ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মারিয়া কোরিনা মাচাদো তাকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কার উপহার দিয়েছেন। এটিকে তিনি পারস্পরিক সম্মানের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে এর পরপরই অসলো ভিত্তিক নোবেল পিস সেন্টার স্পষ্ট করে জানায় নোবেল পদক শেয়ার বা হস্তান্তর করা যায় না। নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে জানায় একটি পদকের মালিক পরিবর্তন হতে পারে কিন্তু নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর মর্যাদা কখনোই হস্তান্তরযোগ্য নয়।

এদিকে মাচাদো বৈঠকটিকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা রক্ষা এবং একটি প্রকৃত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরেছে। তার মতে এতে প্রবাসী ভেনেজুয়েলানদের দেশে ফিরতে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে।

মাচাদো আরও দাবি করেন ভেনেজুয়েলার ইতোমধ্যেই একজন প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট আছেন। তিনি এডমুন্ডো গঞ্জালেজ যাকে বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছিল। যদিও দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষ ওই নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরোকেই বিজয়ী ঘোষণা করেছিল। সে সময় বিরোধী নেতারা যুক্তরাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা কারচুপির অভিযোগ তোলে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয় মাচাদোর আশাবাদী বক্তব্য সত্ত্বেও একটি ছবির সুযোগ এবং ট্রাম্পের দেওয়া সরকারি উপহারের ব্যাগ ছাড়া তিনি বাস্তবে কী অর্জন করেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানান মাচাদোর বিষয়ে ট্রাম্পের মূল্যায়নে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি বলেন প্রেসিডেন্ট মাচাদোর সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা প্রত্যাশা করেছিলেন এবং তাকে ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের জন্য সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখেন। তবে একইসঙ্গে তিনি জানান ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য মাচাদোর প্রয়োজনীয় সমর্থন নেই এমন অবস্থানেই ট্রাম্প অটল রয়েছেন।

সোর্স: সিএনএন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights