পর্তুগালের ‘চার গোলরক্ষক’ ফর্মুলা, রবার্তো মার্তিনেজের নতুন রণকৌশল
স্পোর্টস ডেস্ক
পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ রবার্তো মার্তিনেজের সাম্প্রতিক দল ঘোষণা ইউরোপীয় ফুটবলে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্কোয়াডে সাধারণত তিনজন গোলরক্ষক রাখার রেওয়াজ থাকলেও মার্তিনেজ চারজন গোলরক্ষক অন্তর্ভুক্ত করে অনেককেই চমকে দিয়েছেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হলেও, এই সিদ্ধান্তের পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কৌশল এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখার বৈজ্ঞানিক যুক্তি রয়েছে; যা স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের জন্যও একটি বড় বার্তা হতে পারে।
গনসালো গেদেসের স্কোয়াডে ফেরার পাশাপাশি চারজন গোলরক্ষক ডাকার বিষয়টিই ছিল পর্তুগালের দলে সবচেয়ে বড় চমক। তবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্তিনেজ স্পষ্ট করেছেন যে, এটি কোনো আকস্মিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা নয়, বরং অনুশীলনের তীব্রতা এবং মান সর্বোচ্চ পর্যায়ে বজায় রাখার জন্য একটি সুপরিকল্পিত পদ্ধতির অংশ। বর্তমান ঠাসা ক্রীড়াসূচির এই সময়ে দুটি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ছয় দিনের মতো স্বল্প ব্যবধান পাওয়ায় কোচিং স্টাফরা প্রতিটি অনুশীলন সেশনকে শতভাগ প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন।
চারজন গোলরক্ষক থাকার সুবিধা হলো- এর মাধ্যমে কোচিং স্টাফরা অনুশীলনের কাজের চাপ সঠিকভাবে বণ্টন ও আবর্তন করতে পারেন, ম্যাচের মতো বাস্তব পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেন এবং প্রস্তুতিতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন। একইসঙ্গে এটি বছরের এই ব্যস্ত ও ক্লান্তিকর সময়ে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত ক্লান্তি এবং চোটের ঝুঁকি কমাতেও দারুণ সাহায্য করে।
পর্তুগালের এই কৌশলটি ইতোমধ্যে অন্যান্য জাতীয় দলেও আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে, যার মধ্যে লুইস দে লা ফুয়েন্তের নেতৃত্বাধীন স্পেন দলও রয়েছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ম্যাচের সূচি যদি এভাবে আরও জটিল ও ঠাসা হতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে স্পেনের মতো দলগুলোকেও এই মডেলটি অনুসরণের কথা বিবেচনা করতে হতে পারে। পর্তুগালের এই ফুটবল দর্শন স্পষ্ট করে দেয় যে, দলের প্রস্তুতি কেবল মূল একাদশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো স্কোয়াডের পারফরম্যান্স এবং প্রতিযোগিতার মনোভাবকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়াই আধুনিক ফুটবলের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বকাপের জন্য পর্তুগালের স্কোয়াড
গোলরক্ষক: দিয়োগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা, রিকার্দো ভেলিয়ো
ডিফেন্ডার: দিয়োগো দালোত, মাথেউস নুনেস, নেলসন সেমেদো, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস, গনসালো ইনাসিও, রেনাতো ভেইগা, রুবেন দিয়াস, তমাস আরাউহো
মিডফিল্ডার: রুবেন নেভেস, স্যামুয়েল কস্তা, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা
ফরোয়ার্ড: জোয়াও ফেলিক্স, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও, পেদ্রো নেতো, রাফায়েল লেয়াও, গনসালো গেদেস, গনসালো রামোস ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
সূত্র: বেইন স্পোর্টস
