পাঁচ অঞ্চলে ভাগ সিলেট সিটি
শাহ্ দিদার আলম নবেল, সিলেট
নাগরিক সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশনকে পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। প্রায় ৮০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের মহানগরীর বাসিন্দারা এখন হাতের কাছেই পাবেন নাগরিক সেবা। জোন অফিস থেকে সেরে নিতে পারবেন প্রয়োজনীয় কাজ। জোন অফিসেই মিলবে নাগরিক সেবা। ফলে সব কাজে আর ছুটে আসতে হবে না নগরভবনে। এতে নগরভবনের ওপর কমবে কাজের চাপ। প্রতিটি অঞ্চলের দায়িত্বে থাকবেন একজন করে উপসচিব মর্যাদার কর্মকর্তা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের (এলজিআরডি) উপসচিব রবিউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সূত্র জানায়, মাত্র ২৬.৫ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। আয়তনে ছোট হওয়ায় নগরভবনকেন্দ্রিক সব কার্যক্রম পরিচালনায় খুব বেশি বেগ পেতে হতো না সংশ্লিষ্টদের। ২০২১ সালে ২৭ ওয়ার্ডের সিটি করপোরেশন উন্নীত হয় ৪২ ওয়ার্ডে। আয়তন বেড়ে দাঁড়ায় ৭৯.৫০ বর্গকিলোমিটার। প্রায় তিন গুণ আয়তন বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরভবন থেকে সেবা পেতে একদিকে যেমন নাগরিকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, তেমনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সেবা নিশ্চিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ছোটখাটো কাজেও দূরদূরান্ত থেকে নগরবাসীকে ছুটে আসতে হয় নগরভবনে। এ অবস্থায় সিলেট নগরবাসীর সেবা সহজলভ্য ও মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিসিককে ৫টি অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সালের ৬০ নম্বর আইন)-এর ধারা ৪৭-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সিসিকের ১, ২, ৩, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-১ গঠন করা হয়েছে। অঞ্চল-২ এ রয়েছে ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড। ওয়ার্ড ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৩। সিলেট-৪ অঞ্চলে রয়েছে ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড এবং সিলেট-৫ অঞ্চলে রয়েছে ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড।
সূত্র জানায়, আঞ্চলিক জোনাল অফিসে সেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রশাসনিক কাজ, হিসাব রক্ষণ, পূর্ত কাজগুলোও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, দাতব্য চিকিৎসালয়, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনকরণ, মশক নিধন, সিটি কর নির্ধারণ ও আদায়, লাইসেন্স প্রদান ও ফি আদায়, আবর্জনা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নকরণ কাজ। এ প্রসঙ্গে সিসিকের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, আঞ্চলিক অফিসগুলো চালু হলে নগরবাসীকে কষ্ট করে আর নগরভবনে আসতে হবে না। ঘরের কাছেই তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা পেয়ে যাবেন। জোনাল অফিসে সেবা নিশ্চিতে যে জনবল প্রয়োজন, আপাতত নগরভবন থেকে তাদের পদায়ন করা হবে। সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, তারেক রহমানওে নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সেবা ছড়িয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবন্ধ। এর অংশ হিসেবে সিসিকের সেবা কার্যক্রম বিকেন্দ্রিকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
