পাঁচ সপ্তাহের চেষ্টায় জার্মান উপকূল থেকে তিমি উদ্ধার, বেঁচে থাকা নিয়ে সংশয়

দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহের চেষ্টার পর জার্মান উপকূল থেকে একটি হাম্ব্যাক তিমিকে উদ্ধার করে গভীর সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে এর বেঁচে থাকা নিয়ে এখনও সংশয় কাটেনি।

একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর এই চূড়ান্ত উদ্ধার অভিযানটি দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

মঙ্গলবার বিশেষভাবে প্রস্তুত পানিভর্তি একটি বার্জে প্রবেশ করানো হয় তিমিটিকে। এই উদ্ধার অভিযানের অর্থায়ন করেন দুই জার্মান উদ্যোক্তা।

উদ্ধার শেষে ‘ফরচুনা বি’ নামের টাগবোট তিমিবাহী বার্জটিকে টেনে জার্মান জলসীমা থেকে বের করে আনে। এরপর এটি বাল্টিক সাগর পেরিয়ে ডেনমার্কের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং জুটল্যান্ড উপকূল ধরে স্কাগেরাক প্রণালী হয়ে উত্তর সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

জার্মানির মেকলেনবুর্গ-ফোরপোমার্ন অঙ্গরাজ্যের পরিবেশমন্ত্রী টিল ব্যাকহাউস এ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, “এটি জার্মানির জন্য একটি উদাহরণ।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবকিছু ঠিক থাকলে দুই দিনের মধ্যেই তিমিটি উত্তর সাগরে পৌঁছাবে।

তিনি আরও জানান, তিমিটির অবস্থা আপাতত ভালো এবং এটি রাতে শব্দও করেছে, যা ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। উদ্যোক্তা কারিন ওয়াল্টার-মমার্ট বলেন, “আমি কতটা খুশি-তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।”

অন্য উদ্যোক্তা ওয়াল্টার গুনৎস বলেন, “জীবনে এত প্রার্থনা আগে কখনও করিনি।”

অভিযানের প্রযুক্তিগত প্রধান ফেলিক্স বোনস্যাক বলেন, “তিমিটি যখন বার্জে ঢুকল, সেটি ছিল অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত-আমাদের চোখে পানি এসে গিয়েছিল।”

তবে আন্তর্জাতিক তিমি কমিশনের বিশেষজ্ঞ প্যানেল জানিয়েছে, তিমিটি ‘গুরুতরভাবে দুর্বল’ এবং গভীর পানিতে নেওয়ার পরও বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম।

হোয়েল অ্যান্ড ডলফিন কনজারভেশন (ডব্লিউডিসি) জানিয়েছে, কম লবণাক্ত পানিতে থাকার কারণে তিমিটির ত্বকে ক্ষতি হয়েছে। বেঁচে থাকতে হলে এর ত্বক পুরোপুরি সেরে উঠতে হবে এবং নিজে খাবার সংগ্রহ করতে সক্ষম হতে হবে।

অন্যদিকে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী ফ্যাবিয়ান রিটার কিছুটা আশাবাদী। তিনি বলেন, তিমিটির ‘বেঁচে থাকার ইচ্ছা স্পষ্ট’, তবে এ ধরনের উদ্ধার অভিযান আগে কখনও হয়নি, ফলে এর প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

জার্মান ওশানোগ্রাফিক মিউজিয়াম সতর্ক করে বলেছে, দুর্বলতার কারণে তিমিটি ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।

যেভাবে আটকে পড়েছিল
ধারণা করা হচ্ছে, জালে জড়িয়ে পড়ার পর তিমিটির সমস্যা শুরু হয়। মার্চ মাসের শুরুতে প্রথম এটি দেখা যায় এবং ২৩ মার্চ লুবেক উপসাগরের টিমেনডরফ সৈকতে আটকে পড়ে। পরে এটি পূর্বদিকে সরে গিয়ে উইসমার উপসাগরের কাছে পোয়েল দ্বীপসংলগ্ন অগভীর পানিতে অবস্থান করছিল।

এই সময়টিতে তিমিটি জার্মানজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। উদ্ধারকারীরা একে ‘টিমি’ (মার্চের শেষের দিকে জার্মান উপকূলে যে সৈকতে এটি প্রথম আটকে পড়েছিল সেই নামানুসারে) অথবা ‘হোপ’ নামে ডাকছিলেন। সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights