পাটকাঠি থেকে ছাপার কালি উদ্ভাবন ঢাবির সাবেক ছাত্রের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

পাঠকাঠি থেকে ইঙ্কজেট বা ছাপার কালি উদ্ভাবন করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ড. মো. আব্দুল আজিজ নেতৃতাধীন একটি গবেষণা দল। তারা দাবি করেছেন, তাদের এই উদ্ভাবন মুদ্রণ শিল্প থেকে উৎপন্ন ক্ষতিকর গ্যাস কমাতে পারবে। একই সাথে এ কালি সস্তা এবং উন্নত মানের হওয়ায় মুদ্রণের কালো কালির আমদানি কমিয়ে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি কার্যালয়ে নিজেদের আবিষ্কারের বিষয়ে তুলে ধরেন গবেষক ড. আব্দুল আজিজ। তিনি বলেন, পাটকাঠি থেকে প্রাপ্ত সাবমাইক্রন কার্বন কণা ব্যবহার করে ইঙ্কজেট অথবা ছাপার কালির একটি জলভিত্তিক ফর্মুলেশন তৈরি করেছেন, যা বাজারে থাকা কালির চেয়ে অনেকটা সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব এবং বিকল্প ব্যবহারযোগ্য।

তিনি জানান, ‘তারা বায়োমাস, পাটকাঠিগুলোকে পাইরোলাইজ করার জন্য একটি কাস্টমাইজড পাইলট ফার্নেস ব্যবহার করেছেন, যা জ্বালানী হিসাবে উৎপন্ন গ্যাসগুলিকে পুনর্ব্যবহার করে। সাবমাইক্রন কার্বন কণা তৈরির জন্য প্রাপ্ত কার্বনকে আরও বল-মিল করা হয়েছে। এই কণাগুলি জল-ভিত্তিক ইঙ্কজেট কালি তৈরি করতে বায়োকম্প্যাটিবল ইথিলিন গ্লাইকোল এবং আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলের জলীয় দ্রবণে দ্রবীভূত হয়।’ তিনি আরও জানান, প্রিন্টারে ব্যবহার করে এ কালি ব্যবহার করে বাণিজ্যিক ইঙ্কজেট কালো কালির মত কার্যকারিতা পাওয়া গেছে।
উল্লেখ্য, তরুণ রসায়ন বিজ্ঞানী ড. মো. আব্দুল আজিজের বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর, দক্ষিণ কোরিয়ার পুশান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ন্যানো ম্যাটারিয়াল বেসড ইলেকট্রো অ্যানালাইটিক্যাল কেমিস্ট্রিতে পিএইচডি করেন। ইতোমধ্যে ড. আজিজের ১৯০টি গবেষণাকর্ম বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ন্যানোম্যাটেরিয়াল এবং কার্বোনাসিয়াস পদার্থের প্রস্তুতি, স্থিরকরণ এবং কার্যকরীকরণ এবং রাসায়নিক ও জৈব রাসায়নিক সেন্সর, জলের অক্সিডেশন, সুপারক্যাপাসিটর, ব্যাটারি প্রভৃতি নিয়ে গবেষণা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights