পানি কমছে বাড়ছে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃষ্টিপাত কমে আসায় নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে বন্যার পানি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে নদীভাঙন আতঙ্ক। ইতোমধ্যে তিস্তা নদীর বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় তিস্তা নদীর ডান তীরের প্রধান বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বগুড়ার ফসলি জমি, বসতভিটা ও শিক্ষপ্রতিষ্ঠান।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত) ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের ৬৯টিতে পানি কমেছে। রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমেছে। সুরমা-কুশিয়ারার পানিও হ্রাস পেয়েছে। গঙ্গা-পদ্মার পানি আগামী চার দিন বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও বন্যার পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি। ব্রহ্মপুত্রের পানি কমেছে, যমুনার পানি কিছুটা বেড়েছে। তবে আগামী চার দিন যমুনার পানি কমতে পারে।

বন্যার ঝুঁকিতে থাকা জেলার সংখ্যা আটটি থেকে চারটিতে নেমে এসেছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদী লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে এই তিন জেলায় তিস্তাসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। এর বাইরে কুশিয়ারা নদী এখনো সিলেটে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে নদনদীতে বারবার পানি কমা-বাড়ার কারণে শুরু হয়েছে ভাঙন। বগুড়ার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় যমুনা ও বাঙালি নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের বগুড়া অফিস জানায়, গতকাল সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কর্ণিপাড়া ইউনিয়নের শোনপচা, মূলবাড়ি, বোহাইল ইউনিয়নের মাঝিড়া এলাকায় কৃষিজমি ও বাড়িঘর বিলীহ হচ্ছে। ভাঙন আতঙ্কে গত দুই সপ্তাহে ৩ শতাধিক বাড়িঘর অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া কামালপুর ইউনিয়নের দড়িপাড়া, ইছামারা, টিটুর মোড় ও গোদাখালী এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সারিয়াকান্দির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বাঙ্গালী নদীর তীরেও ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি কমতেই বেরিয়ে আসছে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম অঞ্চলে হওয়া টানা আট দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে মারা যান ৪১ জন। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১৪ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি। নষ্ট হয়েছে ঘরের আসবাব, ধান, চাল ও জমির ফসল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights