পানির সংকটে আমনচাষিরা, শুকিয়ে যাচ্ছে জমি
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টিহীনতায় পানির সংকটে পড়েছেন আমনচাষিরা। বর্ষাকাল শেষ হয়ে ভাদ্র মাস চললেও দেখা নেই কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার আমনক্ষেতে পানির অভাবে মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে, বিবর্ণ হয়ে পড়ছে ধানগাছ। উঁচু জমির কৃষকদের কেউ কেউ সেচ দিয়ে ধানগাছ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও বাড়ছে উৎপাদন খরচ। দীর্ঘস্থায়ী এ পরিস্থিতিতে ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। পাশাপাশি সার পাওয়া নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আমন মৌসুমে বাড়তি চাপের মুখে পড়েছেন তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামে এক লাখ ১০ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। এ বছর আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ২১ হাজার ৬০০ হেক্টর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। কিন্তু টানা বৃষ্টিহীনতায় বিশেষ করে উঁচু জমিগুলো দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের বাড়তি খরচ করে সেচ দিতে হচ্ছে। সময়মতো আগাছা পরিষ্কার, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগেও ব্যাঘাত ঘটছে।
সরেজমিনে কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নিচু জমির কিছু অংশে পানি থাকলেও উঁচু জমিগুলো একেবারে শুকিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও মাটি সাদা হয়ে ফেটে গেছে। পানির অভাবে ধানগাছও বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।
উলিপুর উপজেলার মধুপুর গ্রামের কৃষক তৈয়ব আলী বলেন, ‘আমন ধান লাগানোর উপযুক্ত সময়েই পানির সংকট দেখা দেয়। সেচ দিয়ে চারা রোপণ করেছি। এরপর আর জমিতে পানি দিতে পারিনি। বৃষ্টি না হলে সেচ দিতে হবে। এতে খরচ আরও বাড়বে।’
চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের মজারটারী গ্রামের কৃষক সেকেন্দার আলী ও নাজমুল হক জানান, পানির অভাবে সময়মতো জমিতে সার দিতে পারেননি। পরে শুকনো জমিতেই সার দিতে হয়েছে। সার না গলার কারণে সেচ দিয়ে জমিতে পানি দিতে হচ্ছে।
কৃষক শমশের আলী বলেন, ‘পানির অভাবে জমি শুকিয়ে যাচ্ছে। সেচ দিলে খরচ বাড়ছে। বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি। আবার পানি না থাকায় ধানগাছও ঠিকমতো বাড়ছে না।’
এদিকে পানির সংকটের পাশাপাশি আমন মৌসুমে সার নিয়েও কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেকে। এতে বেশি দামে খোলা বাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে তাদের।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে বিএডিসির আওতায় ১১৪ জন এবং বিসিআইসির আওতায় ৯৪ জন সার ডিলার রয়েছেন। প্রতি ইউনিয়নে বিএডিসির তিনজন ও বিসিআইসির একজন ডিলার থাকার কথা। তবে বাস্তবে কোথাও কোথাও এর ব্যতিক্রম রয়েছে।
আগস্ট মাসে জেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল পাঁচ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বরে চাহিদা চার হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আমনক্ষেতে ইউরিয়া সার প্রয়োগের সময়সীমা শেষ হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আপাতত সারের কোনো সংকট নেই। বৃহস্পতিবার থেকে ডিলাররা আগাম সেপ্টেম্বরের সার উত্তোলন করতে পারবেন। পানির অভাবে কৃষকরা কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। তবে আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানির সমস্যাও কেটে যাবে।’
