পিএসজিকে হারিয়ে ১১ বছর পর ফাইনালে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড

অনলাইন ডেস্ক

ফাইনালের আশা পুনরুজ্জীবিত করতে, লড়াইয়ে ফিরতে যেকোনো মূল্যে দরকার ছিল গোল, কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও পারল না পিএসজি। দলটির চারটি প্রচেষ্টা বাধা পেল পোস্ট আর ক্রসবারে। মাঝে বরং তাদের জালেই বল পাঠাল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের আবার হারিয়ে এক দশকের বেশি সময় পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠল জার্মান দলটি।

প্যারিসে মঙ্গলবার (০৭ মে) রাতে সেমি-ফাইনালের ফিরতি লেগে মাটস হুমেলসের একমাত্র গোলে জিতেছে ডর্টমুন্ড। প্রথম লেগে ঘরের মাঠেও একই ব্যবধানে জেতা বুন্ডেসলিগার দলটি ২-০ গোলের অগ্রগামিতায় শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে।

ডর্টমুন্ড সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলেছিল ২০১৩ সালে, ওয়েম্বলিতে হেরেছিল বায়ার্ন মিউনিখের বিপক্ষে। আর ইউরোপ সেরার প্রতিযোগিতায় নিজেদের একমাত্র শিরোপাটি তারা জিতেছিল ১৯৯৭ সালে, মিউনিখের ফাইনালে ইউভেন্তুসকে হারিয়ে। দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে আগামী ১ জুন ওয়েম্বলিতে বায়ার্ন অথবা রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ডর্টমুন্ড।
ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় এবার মৌসুমটা ভালো কাটেনি ডর্টমুন্ডের। জার্মান কাপে তাদের পথচলা থামে শেষ ষোলোয়। দুই রাউন্ড বাকি থাকতে বুন্ডেসলিগার টেবিলে তারা আছে পাঁচ নম্বরে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তাদের শুরুটা ভালো ছিল না। গ্রুপ পর্বে প্রথম ম্যাচে পিএসজির মাঠে হেরেছিল ২-০ গোলে। সেই মাঠেই এবার দারুণ জয়ে শেষ ধাপে পৌঁছে গেল এদিন তেরজিচের দল।

অন্যদিকে, মৌসুমে এরই মধ্যে দুইটি শিরোপা জেতা পিএসজি চার ট্রফির আশায় ছিল। একটির আশা শেষ হয়ে গেল ফাইনালের আগেই। দ্বিতীয়বারের মতো ইউরোপ সেরার ফাইনালে খেলার আশা পূরণ হলো না তাদের। প্যারিসের দলটির জন্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এক আক্ষেপের নাম হয়েই রয়ে গেল। এই নিয়ে তৃতীয়বার প্রতিযোগিতাটির সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিল তারা, একবার হেরেছে ফাইনালেও, ২০২০ সালে।

পাক দি ফ্রাঁসে শুরু থেকে সুযোগ তৈরি করতে থাকে দুই দলই। তবে কোনো গোলরক্ষকের কঠিন পরীক্ষা নিতে পারছিল না কেউ। তৃতীয় মিনিটে প্রথম লেগের একমাত্র গোলদাতা নিকলাস ফুয়েলখুগের হেড অনায়াসে ঠেকান জানলুইজি দোন্নারুম্মা। পরের মিনিটে গনসালো রামোসের প্রচেষ্টা সহজেই ঠেকান ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। সপ্তম মিনিটে কিলিয়ান এমবাপের ভলি ঠেকাতেও বেগ পেতে হয়নি তাকে।

ত্রয়োদশ মিনিটে গোল করার কাছাকাছি যেতে পারেন রামোস। বক্সের বাইরে থেকে পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডের শট পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে যায়। ৩৫তম মিনিটে বাম দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে ফাবিয়ান রুইস কাট-ব্যাক করেন এমবাপের উদ্দেশে, কিন্তু ছয় গজ বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের চ্যালেঞ্জে ঠিকমতো শট নিতে পারেননি ফরাসি তারকা। সেখান থেকেই দারুণ এক প্রতি-আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করে ডর্টমুন্ড। বক্সে ঢুকে কারিম আদেইয়েমির নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে ফিরিয়ে পিএসজিকে বাঁচান দোন্নারুম্মা।

দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটে এমবাপের গোলের উদ্দেশে নেওয়া শটে ফ্লিক করেন রামোস, আর দূরের পোস্টে ওয়ারেন জাইরে-এমেরির শট পোস্টে লাগে। মিনিট তিনেক পর গোল খেয়ে বসে পিএসজি। সতীর্থের কর্নারে হেডে গোল করে দুই লেগ মিলিয়ে ডর্টমুন্ডকে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন ৩৫ বছর বয়সী জার্মান ডিফেন্ডার হুমেলস।

২০১৮ সালের অক্টোবরে আয়াক্সের বিপক্ষে গোলের পর এই প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জালের দেখা পেলেন তিনি। প্রতিযোগিতাটির সেমি-ফাইনালে হুমেলসের চেয়ে (৩৫ বছর ১৪৩ দিন) বেশি বয়সে গোলের কীর্তি আছে কেবল রায়ান গিগস (৩৭ বছর ১৪৮ দিন, ২০১১ সালে) ও এদিন জেকোর (৩৭ বছর ৫৪ দিন, গত মৌসুমে)।

৬২তম মিনিটে আরেকবার দুর্ভাগ্যের ফেরে গোল পায়নি পিএসজি। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নুনো মেন্দেসের জোরাল শট পোস্টে লাগে। ৬৫তম মিনিটে উসমান দেম্বেলে ফাউলের শিকার হলে বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পায় পিএসজি। মার্কো আসেন্সিওর শট প্রতিহত হয় রক্ষণ দেয়ালে।

৮১তম মিনিটে কাছ থেকে এমবাপের শট ঠেকান গোলরক্ষক। ৮৭তম মিনিটে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকে বিশ্বকাপ জয়ী এই তারকার প্রচেষ্টা কোবেলের হাত ছুঁয়ে ক্রসবারে লাগে। দুই মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে ভিতিনিয়ার জোরাল শটও ক্রসবারে লাগে। শেষ পর্যন্ত তাই আর গোল পাওয়া হয়নি লুইস এনরিকের দলের।

রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের পাশের বিজ্ঞাপন বোর্ড পেরিয়ে ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়রা একে একে চলে যান গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের কাছে। মেতে ওঠেন আনন্দ-উল্লাসে। পিএসজি শিবিরে তখন হতাশার কালো মেঘ! এখন ফাইনালের প্রতিপক্ষ জানার অপেক্ষায় ডর্টমুন্ড। আজ বুধবার আরেক সেমিফাইনালের ফিরতি লেগে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে ৬ বারের ইউরোপ চ্যাম্পিয়ন বায়ার্নের মুখোমুখি হবে রেকর্ড ১৪ বারের শিরোপা জয়ী রিয়াল। প্রথম লেগে ২-২ ড্র হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights