পুরনো রুটে নতুন ঢল

মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
পুরনো রুট দিয়েই নতুন করে ঢল নেমেছে মাদকের। আইন প্রয়োগকারী সংস্থারগুলোর শিথিলতার সুযোগে পুরনো এসব রুটে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে মাদক কারবারিরা। যদিও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দাবি- মাদক পাচারের চিহ্নিত রুটগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জোরদার করা হচ্ছে তল্লাশি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর কিছু দিন মাদক উদ্ধার অভিযানে ভাটা ছিল। কিন্তু বর্তমানে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অভিযানে সাফল্যও আসছে।’

র‌্যাব-৭ সহকারী পরিচালক এআরএম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ‘ইয়াবা পাচার নতুন এবং পুরনো রুট বিষয়ে আমরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছি। মাদকসংক্রান্ত তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গত কয়েক দিনে কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব।’
জানা যায়, ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর শিথিলতার সুযোগে চট্টগ্রাম বিভাগের দেড় শতাধিক মাদক প্রবেশের পয়েন্ট দিয়ে ঢল নামে ইয়াবা, আইস, গাঁজা এবং ফেনসিডিলের। পুরনো রুট দিয়ে আসা এসব মাদকের চালান ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। মাদকের রাজধানীখ্যাত মিয়ানমারের সান স্টেট থেকে অন্তত ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করছে মরণ নেশা ইয়াবা ও আইস। যার মধ্যে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ, উখিয়া, বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি দিয়ে নেমেছে ইয়াবা ও আইস ঢল। এ পয়েন্টগুলো দিয়ে মাদকের চালান প্রবেশ করে চট্টগ্রাম হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। ইয়াবা ও আইসের রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে- কক্সবাজার-চকোরিয়া-লোহাগাড়া-সাতকানিয়া-চন্দনাইশ-পটিয়া-চট্টগ্রাম, চন্দনাইশ-আনোয়ারা-চট্টগ্রাম, পটিয়া-মনসা-বোয়ালখালী-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার থেকে সমুদ্র পথে বাঁশখালী-আনোয়ারা-চট্টগ্রাম এবং লোহাগাড়া-সাতকানিয়া-কেরানিহাট-বান্দরবান-লেচুবাগান-চট্টগ্রাম।

এ ছাড়া বঙ্গোসাগরে সেন্টমার্টিন হয়ে ইয়াবা ও আইস প্রবেশ করছে চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কমপক্ষে ১০০টি স্পট দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে গাঁজা, ফেনসিডিল, এসকাফ সিরাপ এবং বিলাতি মদ। পরে মাদকগুলো আনন্দপুর-আশাবাড়ি-শশীদল-চট্টগ্রাম ও ঢাকা, তেতাভূমি-হরিমঙ্গল-নাইঘর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-মিরপুর-কসবা-ঢাকা, শংকুচাইল-কংশনগর-ক্যান্টনমেন্ট-কুমিল্লা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা, গোলাবাড়ি-বিবির বাজার-নিশ্চিতপুর-চট্টগ্রাম ও ঢাকা এবং চৌদ্দগ্রাম-মিয়ারবাজার-সুয়াগাজী-চট্টগ্রাম ও ঢাকা- এ পাঁচ রুট হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলার ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ করে ফেনসিডিল, গাঁজা ও বিলাতি মদ। এসব মাদক চট্টগ্রাম হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।

twitter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights