পেন্টাগনে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের প্রেস অফিসে সাংবাদিকদের প্রবেশে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পেন্টাগন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এ সিদ্ধান্তকে স্বাধীন সাংবাদিকতা দমনের সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন।

সোমবার পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত প্রেস সচিব জোয়েল ভালদেজ এক বিবৃতিতে জানান, প্রতিরক্ষা দফতরের প্রেস অফিসকে নতুন করে ‘সংবেদনশীল শ্রেণিবদ্ধ তথ্য কেন্দ্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে সাংবাদিকদের আর ওই দফতরে সরাসরি প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ভালদেজ বলেন, প্রতিরক্ষা দফতরের ভাষণ লেখকরা নিয়মিতভাবে গোপন সরকারি তথ্য নিয়ে কাজ করেন। এ কারণে তাদের জন্য নিরাপদ সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যবহারের প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা সচিবের জনসংযোগ বিষয়ক সহকারী এবং প্রেস সচিবের কার্যালয়ে কেবল পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাতের মাধ্যমে প্রবেশ করা যাবে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ধীরে ধীরে সীমিত করা হচ্ছে। এর আগে মার্চ মাসে প্রতিরক্ষা বিভাগ ঘোষণা দেয়, কোনো সংবাদমাধ্যমকে আর পেন্টাগনের ভেতরে স্থায়ী কার্যালয় রাখতে দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া পেন্টাগন কমপ্লেক্সে সাংবাদিকদের চলাচলের জন্য বাধ্যতামূলকভাবে একজন সরকারি প্রহরী নিয়োগের নিয়মও চালু করেছে। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব এই সিদ্ধান্তকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছে।সংগঠনটির সভাপতি মার্ক শোয়েফ জুনিয়র এক বিবৃতিতে বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী নিয়ে স্বাধীন সংবাদ প্রকাশ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য। সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হলে জনগণ কম তথ্য পায়, স্বচ্ছতা কমে যায় এবং জবাবদিহিতা দুর্বল হয়।”

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনও এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন বলেন, আজকাল পেন্টাগনের প্রেস অফিস থেকে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার এবং মিথ্যা ছাড়া অন্য কিছু বের হওয়া বিরল। তাই ওই স্থানকে গোপনীয় কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া কঠিন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসনের অধীনে পেন্টাগন থেকে প্রকাশিত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights