পোড়াদহ মেলায় ৪০ কেজি ওজনের পাখি মাছ

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া:

বগুড়ার গাবতলীতে বসেছে প্রায় চারশো বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা। বুধবার মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আনা হয় হরেক প্রজাতির বিশালাকৃতির মাছ। বিখ্যাত এ মেলাকে ঘিরে শতাধিক গ্রামজুড়ে চলছে অতিথি আপ্যায়ন ও আনন্দ উৎসব। এক দিনের মেলাকে ঘিরে গাবতলী উপজেলাসহ আশপাশের ৫টি উপজেলায় চলছে উৎসবের আমেজ। দিনব্যাপী পোড়াদহ মেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন স্থানে মাছের মেলায় লাখো মানুষের পদচারনায় মুখরিত ছিল।

এবার মেলায় সবচেয়ে বড় ৪০ কেজি ওজনের পাখি মাছের দাম হাকা হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা। যা প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা করে। এছাড়াও বড় বড় রুই-কাতলা মাছগুলো নজর কাড়ে সকলের।

জানা যায়, মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী ২০ গ্রাম আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা জানান, প্রায় চারশো বছর আগে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতি নদীর শাখা (খাল) সংলগ্ন পোড়াদহ নামক স্থানে একটি বটবৃক্ষ তলে আয়োজন করা হতো সন্ন্যাসী মেলা। প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ অথবা ফাল্গুন মাসের প্রথম বুধবার অনুষ্ঠিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলায়। নদী তীরবর্তী স্থানে এই মেলায় দিনকে দিন নানা প্রজাতির মাছের আমদানি হতে শুরু করে। এক সময় তা এই অঞ্চলে মাছের মেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। একপাশে বসেছিলো গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিশেষ করে মসলাপাতির দোকানপাট। অপর পাশে ছিলো কাঠের আসবাবপত্রের দোকান। সে সাথে হরেকরকমের মিষ্টির দোকান রয়েছে। মেলার প্রধান আকর্ষণ মাছপট্টিতে বিশালাকৃতির দেশীয় প্রজাতির বড় বড় চিতল, বোয়াল, রুই, কাতলা ও শোল মাছ। মেলার আয়োজকরা জানান, এই পোড়াদহ মেলাকে স্থানীয় ভাষায় জামাই মেলা বা মাছের মেলা বলা হয়। সে কারণে মেলার আশপাশের গ্রামগুলোতে মেয়ে ও জামাইদের নিমন্ত্রণও করা হয়। জামাইরা বড় বড় মাছ কিনে শশুর বাড়িতে যাওয়াটাই এই এলাকার ঐতিহ্য।
এদিকে মেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলায় ৪০ কেজি ওজনের সবচেয়ে বড় সাইজের পাখি মাছ কক্সবাজার থেকে এনেছেন টাঙ্গাইলের শরীফ তালুকদার। তিনি প্রতি কেজি ২ হাজার টাকা হিসেবে মাছটির দাম হাঁকিয়েছেন ৮০ হাজার টাকা।

মাছের আড়তদার আতিকুল ইসলাম জানান, মেলায় বড় মাছের চাহিদা থাকায় তিনি এবার দেশীয় প্রজাতির বড় বোয়ালসহ পাঙ্গাস মাছ তুলেছেন । দামও পাওয়া যাচ্ছে ভালো। ভোর থেকেই মেলায় লোকজনের সমাগম দেখা গেছে।

মাছ কিনতে আসা রমজান আলী জানান, ৮ কেজি ওজনের কাতলা মাছ কিনেছন। তিনি বলেন, মাছের দাম নয়, মাছের আকারটিই বড় ব্যাপার। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনদের এই মাছ দিয়ে আপ্যায়ন করাতে পারবেন ভাবতেই তার আনন্দ হচ্ছে।

মেলায় মাছ ছাড়াও শিশুদের জন্য খেলাধূলার সামগ্রীসহ রয়েছে হরেক রকমের খাবারের দোকান। এছাড়াও প্রসাধনী সামগ্রীর পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানও রয়েছে। এবারো ১২ কেজি ওজনের মিষ্টি বিক্রি হয়েছে ৭’শ টাকা কেজি দরে। মাছ আকৃতির মিষ্টিসহ বিভিন্ন আকারের মিষ্টি ছিল শতাধিক দোকানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights