পোলাও এখন পাতে তোলাও দায়

নজরুল মৃধা, রংপুর

রংপুর অঞ্চলে ছয় মাসের ব্যবধানে সুগন্ধি চিনিগুঁড়া (আতপ) চালের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা। ফলে ইলিশ মাছের মতো সাধারণ মানুষের পাত থেকে উঠে যাচ্ছে চিনিগুঁড়া চালের পোলাও। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চিনিগুঁড়া সুগন্ধি চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে উৎপাদন কম এবং বৈধ-অবৈধভাবে এ চাল দেশের বাইরে পাঠানো। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে এটি অবাধ রপ্তানিযোগ্যপণ্য নয়। শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ বৈধ পন্থা ছাড়াও অন্য পণ্যের মোড়কে এ চাল পাচার হচ্ছে। রংপুরের মাহিগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন চালের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছয় মাস আগেও চিনিগুঁড়া আতপ চাল প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। সেই চাল এখন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২২০ টাকা। নগরীর মাহিগঞ্জ এলাকার চালের আড়তদার মাসুম মিয়া চিনিগুঁড়া চালের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে জানান, বিভিন্ন প্রজাতির চাল বছরখানেক সময়ের মধ্যে কেজিপ্রতি দুই টাকা থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। কিন্তু দাম দ্বিগুণ হয়েছে চিনিগুঁড়া চালের। তিনি জানান, ইউরোপ, আমেরিকা, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে এ চালের চাহিদা রয়েছে। তাই বড় বড় ব্যবসায়ীরা বৈধ এবং অবৈধভাবে এ চাল বিদেশে পাঠাচ্ছেন। তবে অনেকে এ চালের দাম বাড়ার জন্য কারসাজিকে দায়ী করছেন। কৃষি অফিস জানিয়েছে, আমন মৌসুমে ব্রি-৩৪ এবং বোরো মৌসুমে ব্রি-৫০ ধান থেকে চিনিগুঁড়া চাল তৈরি হয়। রংপুর অঞ্চলে গত আমন মৌসুমে ২৬ হাজার ৫৪১ হেক্টর জমিতে সুগন্ধি ধান আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন হয়েছে ২ দশমিক ৯ মেট্রিক টন। সে হিসেবে ৭৮ হাজার মেট্রিক টনের বেশি বিভিন্ন প্রজাতির সুগন্ধি চাল উৎপাদন হয়েছে। এ ছাড়া দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও বগুড়ায় সুগন্ধি চালের আবাদ হয়ে থাকে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা (সহকারী নিয়ন্ত্রক) আরিফ আহমদ বলেন, সুগন্ধি চাল অবাধ রপ্তানিযোগ্য পণ্য নয়। কিছু শর্তসাপেক্ষে রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়। সর্বশেষ ১৪ জুলাই ৬৭ জনকে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights