প্রতিবেশী দেশের তুলনায় ব্যয় প্রায় চার গুণ বেশি, বলছে টিআইবির গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০-এর অপব্যবহার করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে উচ্চ ট্যারিফে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করা হয়। যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় প্রকৃত ব্যয়ের চেয়ে গড়ে দেড় গুণ বেশি দেখিয়ে প্রায় ২ হাজার ৯২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) পরিচালিত ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল টিআইবির ধানমন্ডি কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

গবেষণার আওতাভুক্ত মাত্র পাঁচটি প্রকল্পেই ভূমি ক্রয় ও ক্ষতিপূরণ প্রদানে ২৪৯ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতি হয়েছে। এ দুর্নীতির টাকা ভাগাভাগি হয়েছে আইপিপি কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মী এবং প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্যদের একাংশের মধ্যে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) হিসাব অনুযায়ী, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও গবেষণার আওতাভুক্ত ৬টি প্রকল্পে গড়ে ১৩.৮ কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। অর্থাৎ মোট ২ হাজার ৯২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় করা হয়েছে। এ ছাড়া জমি কেনার ক্ষেত্রে আইপিপির কর্মকর্তাদের একাংশ, ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে বলে গবেষণায় জানানো হয়। গবেষণায় উঠে আসা দুর্নীতির চিত্রে দেখা যায়, দেশে বিদ্যুৎ খাতের বিদেশি বিনিয়োগের ৯৬.৭ শতাংশই যাচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানিতে, আর নবায়নযোগ্য খাতে মাত্র ৩.৩ শতাংশ। যা একদিকে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও আত্মঘাতী। অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাজেট বরাদ্দ চাহিদার তুলনায় একেবারেই নগণ্য। নীতিগতভাবে প্রাধান্যের দিক থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত যথাযথ গুরুত্ব পায়নি বরং অবহেলিত হয়েছে।

বাস্তবিক নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিবর্তে অপরীক্ষিত তথাকথিত গ্রিন এনার্জিকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।’ অনুষ্ঠানে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে একটি টেকসই ও স্বচ্ছ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ১৫ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করে টিআইবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights