প্রধানমন্ত্রীর ‘স্পিরিট ও স্পিড’ বজায় রাখুন, কর্মকর্তাদের বার্তা প্রতিমন্ত্রী মীর হেলালের

অনলাইন ডেস্ক

বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কাদা ছোড়াছুড়ি বা একজন আরেকজনকে দোষারোপ করে উন্নয়ন সম্ভব নয়। আগের দিনের হিসাব এখানে টানলে চলবে না, বরং প্রকৃত উন্নয়ন করতে হবে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে। সরকারের বরাদ্দকৃত টাকার প্রত্যেকটি কাজের মধ্যে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। শুধুমাত্র টন হিসাবে খাদ্যশস্য বা সামান্য অর্থ বরাদ্দ দিলেই প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, সমষ্টিগতভাবে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য সকলকে নিয়ে বাস্তবমুখী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

আজ সোমবার বিকেলে বেইলি রোডস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স ভবনের সভাকক্ষে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) সংক্রান্ত এপ্রিল মাসের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাজের যে স্পিরিট ও স্পিড রয়েছে, আমাদের সেটি বজায় রাখতে হবে। প্রধানমন্ত্রী যদি একশ মাইল বেগে চলেন আর অন্যরা যদি মাইনাস দশ মাইলে থাকে, তবে তা সামগ্রিকভাবে সবার জন্যই ক্ষতি বয়ে আনবে। কারণ, বর্তমানে প্রতিটি সেক্টরে খুব শক্তিশালীভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মীর হেলাল উদ্দীন বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের যেখানে যেখানে সুযোগ আছে, নিয়মতান্ত্রিকভাবে যা যা করা দরকার তা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি তিন পার্বত্য জেলা পরিষদেরও সমান ভূমিকা থাকতে হবে। আগের সময়ে কী হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের আমলের সঙ্গে মেলালে চলবে না। তিনি দৃঢ়ভাবে ইংরেজি একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর একটি সুনির্দিষ্ট ভিশন এবং প্ল্যান রয়েছে, যা তিনি বাস্তবায়ন করবেনই—তা আমাদের সঙ্গে নিয়ে হোক কিংবা আমাদের ছাড়াই হোক। এই বার্তাটি সবাইকে মনে রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে গার্ডার ব্রিজ, কালভার্ট নির্মাণ কিংবা সামাজিক সেবার নামে খাদ্যশস্য ও নগদ টাকা দিলেই মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে না। এখন প্রয়োজন তাদের প্রকৃত জীবনমান উন্নয়ন করা, কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলার মতো প্রকল্প গ্রহণ করা। পুরাতন রীতিনীতি বাদ দিয়ে মানুষের টেকসই উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

সভায় এডিপিভুক্ত প্রকল্প কর্মসূচির সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জানানো হয়, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে ৮৭২ কোটি ৪০ লাখ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এর মধ্যে জিওবি খাতে ৭৩৯ কোটি ৭৯ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং পিএ খাতে ১৩২ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ আছে। বর্তমান অর্থবছরে এডিপিভুক্ত ৮টি প্রকল্প এবং ৩টি উন্নয়ন সহায়তা অনুমোদিত রয়েছে। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত অর্থছাড় করা হয়েছে ৪১০ কোটি ২৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪৭.০২ শতাংশ এবং ব্যয়ের অগ্রগতি ৩৪৩ কোটি ৬৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৩৯.৪০ শতাংশ।

উক্ত সভায় পার্বত্য চট্টগ্রামে তুলা চাষ বৃদ্ধি ও কৃষকদের দারিদ্র্য বিমোচন, প্রত্যন্ত এলাকায় সংযোগ সড়ক ও গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন উন্নয়ন ও ওয়াটারশেড ম্যানেজমেন্ট, টেকসই সামাজিক সেবা প্রদান এবং বান্দরবান জেলায় সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থাকরণসহ বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, বান্দরবান ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights