‘প্রিন্স’ উপাধি হারিয়ে নতুন ঝামেলায় অ্যান্ড্রু, কঠোর অবস্থানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে নতুন করে নাম জড়ানোয় ব্রিটেনের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। শনিবার তিনি জানান, এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে অ্যান্ড্রুর উচিত মার্কিন কংগ্রেসের কমিটির সামনে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া।
জাপান সফরের পথে বিমানে থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যাদের কাছে তথ্য আছে, তাদের উচিত তা যথাযথভাবে শেয়ার করা। আপনি যদি ভুক্তভোগীদের পাশে দাঁড়াতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।
গত শুক্রবার মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সংক্রান্ত কিছু নতুন ফাইল প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, ২০০৮ সালে এপস্টাইন শিশু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও প্রায় দুই বছর অ্যান্ড্রু তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন।
প্রকাশিত নথিতে এমন কিছু ছবি রয়েছে যেখানে অ্যান্ড্রুকে একজন অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যাচ্ছে (নিরাপত্তার স্বার্থে নারীর মুখটি ঢেকে দেওয়া হয়েছে)।
এপস্টাইন ও অ্যান্ড্রুর মধ্যে বিভিন্ন ব্যবসা এবং নারীসঙ্গ নিয়ে ইমেইল আদান-প্রদান হয়েছে। এমনকি এপস্টাইন তিন নারীকে বাকিংহাম প্যালেসে নিয়ে আসার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
৬৫ বছর বয়সী অ্যান্ড্রু বর্তমানে ‘মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর’ পারিবারিক নাম ব্যবহার করছেন। এপস্টাইন বিতর্কের জেরে গত নভেম্বরে রাজা চার্লস তার ভাইয়ের ‘প্রিন্স’ উপাধি কেড়ে নেন এবং উইন্ডসর ক্যাসেলের বাসভবন থেকে তাকে উচ্ছেদ করেন।
যদিও অ্যান্ড্রু বরাবরই কোনো ধরনের অন্যায়ের কথা অস্বীকার করে আসছেন। তার দাবি ছিল, ২০১০ সালে নিউইয়র্কে এপস্টাইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন শুধু সম্পর্ক শেষ করার জন্য। তবে নতুন ফাঁস হওয়া ইমেইলগুলো তার এই দাবিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
মার্কিন কংগ্রেসের একটি কমিটি গত নভেম্বর থেকেই অ্যান্ড্রুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। ২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টাইনের আত্মহত্যার পর তার ভুক্তভোগীরা এখনো ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর রাজপরিবারের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাকিংহাম প্যালেস থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: রয়টার্স
