“প্ল্যাটফর্ম”
কবি হাসিনা মরিয়ম
প্রতিদিন এসে বসি প্ল্যাটফর্ম এর এই বেঞ্চটায়,
প্রতিটা ট্রেন দেখি বারবার,
কিভাবে যাত্রীরা উঠানামা করছে,
সেই কবে তুমি চলে গিয়েছিলে এখান থেকে..
আমার হাত দুটি ধরে বলেছিলে-
খুব তাড়াতাড়ি ফিরে আসব,
অপেক্ষা করো আমার জন্য..
অপেক্ষা..
জানিনা কবে শেষ হবে অপেক্ষার পালা..
অপেক্ষা..
এইতো করে আসছি আমি,
দিন, মাস, বছর, ঘন্টা পার হয়ে যাচ্ছে,
একটু একটু করে সময় বয়ে চলেছে..
আর আমিও সময়ের সাগর পাড়ি দিচ্ছি
তোমার জন্য..
আজকাল বড্ড বেশী ক্লান্ত লাগে
বড় একা লাগে নিজেকে..
ছোট্ট এই ঘরটায়
নিরবতা আমাকে গ্রাস করে,
কাঠাঁল চাঁপার তীব্র ঝাঁঝালো মাদকতার সুবাস
চারপাশের পরিবেশ এক
বিমূর্ত আবাহন তৈরী করে,
অপলক চেয়ে থাকি
তোমার ছবিটার দিকে,
এখন কেমন দেখতে হয়েছো তুমি,
আমার মত সাদা দুগাছি চুল তোমারও হয়েছে কানের দুপাশে…
নাকি রং মেখে আড়াল করে রেখেছো,
জানি বড্ড বেশী খুঁতখুঁতে তুমি,
সবসময় পরিপাটি থাকা চাই তোমার..
আচ্ছা..
এখন কি তুমি আমাকে চিনবে..
জানিনা আমি তোমাকে চিনবো কিনা..
এখন আর তানপুরাটা তেমন একটা বাজাই না,
কার জন্য বাজাবো..
আমার যতো ব্যস্ততা তা ছিল তোমাকে নিয়ে,
কেমন ধুলো জমে আছে তানপুরাটার উপর,
বাইরে বিবর্ন আকাশটাতে একঝাঁক পাখী উড়ে বেড়াচ্ছে..
চারিদিক কেমন যেন ঘোলাটে এক গুমোট পরিবেশ,
বেলা শেষের এই আবাহন কেমন যেন একটা
বিমূর্ত বিষন্নতা চারপাশ ছড়িয়ে রাখে..
ভাবলেশহীন দৃষ্টিতে আমিও তাকাই দূরে…
ঐযে দিগন্ত রেখাটা যেখানে মিশেছে..
কে জানে
তুমি হয়তো ঐ পথ ধরেই আসবে,
জানিনা কি আশায় আমি বালুচরে
বাঁধি আমার ঘর..
জানিনা তুমি কোথায় হারিয়ে গেছো
কোন সুদুরে..
জানিনা আদৌ তুমি ফিরে আসবে কিনা,
নাকি প্ল্যাটফর্ম এর এই বেঞ্চটায়
আমি তোমারই অপেক্ষায়
সময়ের হাত ধরে চলে যাবো অসীমের ওপাড়ে..।।
