ফরিদপুরে টর্চ জ্বালিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩৫
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কুদ্দুছ মোল্লা (৫৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
রবিবার (৪ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন। আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের মকরমপট্টি গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দবির মাতুব্বর (৬৫) ও বজলু মুন্সী (৬০) নামে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এই দ্বন্দ্ব রবিবার রাতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুই পক্ষের শত শত লোক ঢাল, সড়কি, রামদা ও ইটপাটকেল নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এই সহিংসতা, চলে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
রাত সাড়ে ৯টা থেকে আহতদের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা শুরু হয়। এর মধ্যে গুরুতর আহত কুদ্দুছ মোল্লাকে রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।
নিহতের ছেলে মিঠুন মোল্লা (২০) অভিযোগ করেন, তার বাবাকে দবির মাতুব্বরের অনুসারীরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, “আধিপত্যের বিরোধেই আমার বাবাকে মেরে ফেলা হয়েছে।”
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. তানসিভ জুবায়ের জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত কুদ্দুছ মোল্লার গলায় ধারালো অস্ত্রের কোপ ছিল বলে তিনি জানান।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, তবে এখনও কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
