ফাইনালের ভাগ্য গড়তে পারে যে তিন দ্বৈরথ

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বকাপের মহারণে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। দুই দলের শক্তির ধরন ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ মুকুট জয়।

স্পেন টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের পরিচিত বল দখলের ফুটবল, দ্রুত আক্রমণ বদল এবং তরুণদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে এগিয়ে এসেছে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বারবার প্রমাণ করেছে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তারা কতটা ভয়ংকর। বিশেষ করে লিওনেল মেসির উপস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে।

ফাইনালে দলগত কৌশলের পাশাপাশি কয়েকটি ব্যক্তিগত লড়াইও নির্ধারণ করে দিতে পারে ম্যাচের ভাগ্য। নজর থাকবে বিশেষ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বৈরথে।

মেসিকে থামানোর দায়িত্ব লাপোর্তের

৩৯ বছরে পা দিলেও লিওনেল মেসির প্রভাব এতটুকু কমেনি। এবারের বিশ্বকাপে আট গোল ও চার অ্যাসিস্ট করে তিনি আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলের দুই গোলেই অবদান ছিল তার।
তাই স্পেনের প্রধান চিন্তার নামও মেসি। তাকে আটকাতে হবে রক্ষণভাগের নেতা এমেরিক লাপোর্তকে। যদিও এই কাজ একার পক্ষে সম্ভব নয়, তবু স্প্যানিশ রক্ষণভাগকে সংগঠিত রাখার মূল দায়িত্ব থাকবে তার কাঁধে।

এবারের বিশ্বকাপে স্পেন সাত ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছে। সেই দৃঢ় রক্ষণ ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি লাপোর্ত। তবে ফাইনালে তাঁর সামনে এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি এক ঝলকেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।

মাঝমাঠে রদ্রি-এনজোর আধিপত্যের লড়াই

ফাইনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ হতে পারে মাঝমাঠে। কারণ সেখানেই মুখোমুখি হবেন স্পেনের রদ্রি এবং আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। মাঝমাঠে যে দল নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে থাকবে, ম্যাচে তারাই বড় সুবিধা পেতে পারে।

আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের প্রাণ এনজো। রক্ষণে প্রতিপক্ষের আক্রমণ থামানো থেকে শুরু করে আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সব ক্ষেত্রেই তিনি কার্যকর। শেষ ষোলো ও সেমিফাইনালে তার গুরুত্বপূর্ণ গোল আর্জেন্টিনাকে বড় ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করেছে।

অন্যদিকে রদ্রি পুরো টুর্নামেন্টে স্পেনের খেলার নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করেছেন। বলের দখল ধরে রাখা, আক্রমণের গতি নির্ধারণ এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ নষ্ট করে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান অসাধারণ। পাস দেওয়ার নির্ভুলতা ও মাঠজুড়ে নিরলস পরিশ্রম তাকে স্পেনের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত করেছে।

ইয়ামালের গতি বনাম তালিয়াফিকোর অভিজ্ঞতা

স্পেনের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। চোট কাটিয়ে ফিরে তিনি ধীরে ধীরে নিজের সেরা ছন্দে ফিরেছেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে তার গতিময় দৌড় ও আক্রমণাত্মক ফুটবল স্পেনকে এগিয়ে নিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ফাইনালে তাকে সামলানোর দায়িত্ব পড়বে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ বামপ্রান্তের ডিফেন্ডার নিকোলাস তালিয়াফিকোর ওপর। বিশ্বকাপজয়ী এই ফুটবলার জানেন বড় ম্যাচের চাপ কীভাবে সামলাতে হয়।

ইয়ামালের গতি, ড্রিবলিং এবং ডি বক্সের ভেতরে ঢুকে সুযোগ তৈরির ক্ষমতা ঠেকাতে তালিয়াফিকোকে খেলতে হবে নিখুঁত পরিকল্পনায়। এই লড়াইয়ে যে এগিয়ে থাকবে, সে দলও পেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।

বিশ্বকাপ ফাইনাল অনেক সময় একটি মুহূর্তেই নির্ধারিত হয়ে যায়। তবে সেই মুহূর্তের পেছনে থাকে একাধিক ছোট-বড় যুদ্ধ। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের ফাইনালেও তেমনই তিনটি দ্বৈরথের দিকে থাকবে ফুটবল বিশ্বের বিশেষ নজর। এগুলোর যেকোনো একটি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ ট্রফির গন্তব্য ঠিক করে দিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights