ফুটপাত সংকোচন পথচারীদের জন্য হুমকি: সিএলপিএ
অনলাইন ডেস্ক
নগর কর্তৃপক্ষের ফুটপাত সংকোচনের পদক্ষেপ পথচারীদের জীবনের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মনে করছে সেন্টার ফর ল’ অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স (সিএলপিএ) ট্রাস্ট। সংগঠনটির অভিযোগ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কাকরাইল, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশস্ত ফুটপাত কেটে ছোট করে ফেলেছে।
রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন সিএলপিএর সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, কোনো কোনো এলাকায় ফুটপাত এতটাই সংকুচিত করা হয়েছে যে পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় ফুটপাত পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ ধরনের পদক্ষেপ বেআইনি এবং নাগরিক অধিকার হরণের শামিল। ডিএসসিসির এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিএলপিএ বলেছে, সিটি করপোরেশন একদিকে মানসম্মত গণপরিবহন দিতে ব্যর্থ হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের হাঁটার অধিকারও কেড়ে নিচ্ছে। ঢাকার সড়কগুলো মূলত ব্যক্তিগত গাড়িকেন্দ্রিক করে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ)-এর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সিএলপিএর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই পথচারী। যদিও সরকারের বিভিন্ন নীতিতে পথচারী অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, বাস্তবে ঢাকার সড়কে পথচারীদের ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
জাতীয় সমন্বিত বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহন নীতিমালা–২০১৩, অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত পরিকল্পনা, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন–২০০৯, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন–২০১৩, সড়ক পরিবহন আইন–২০১৮ এবং ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)-এ পথচারীদের অগ্রাধিকার ও নিরাপত্তার কথা বলা থাকলেও ডিএসসিসি এসব আইনের ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনেক জায়গায় ফুটপাত এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে সেখানে হুইলচেয়ার নিয়ে চলাচল সম্ভব নয়, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
ডিটিসিএ ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সিএলপিএ জানায়, ২০২৩ সালের জরিপ অনুযায়ী গ্রেটার ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৮৭ কোটি যাত্রা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ যাত্রা হয় হাঁটার মাধ্যমে, যা সংখ্যায় প্রায় ১ দশমিক ৪৭ কোটি। ২০০৯ সালে হাঁটার হার ছিল ১৯ থেকে ২০ শতাংশ, যা ২০২৩ থেকে ২০২৫ সময়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
