“ফ্রান্সের ঐতিহ্য আইফেল টাওয়ার “
হাসিনা মরিয়ম
ফ্রান্স একটি ঐতিহাসিক দেশ,দেশটির পরতে পরতে ইতিহাস ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে, সবচেয়ে বড় আইকন হলো আইফেল টাওয়ার, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে, আইফেল টাওয়ারের কাছাকাছি যাওয়ার যে অনুভুতি তা এক কথায় অসাধারণ, আমার সেই ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল,কি অনুভূতি বোঝাতে পারব না,
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস এ অবস্থিত আইফেল টাওয়ার, এটা লোহার তৈরী, ১৮৮৭ সাল থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে এটা নির্মাণ করেছিল,এটা প্রায় ৮১ তলা ভবনের সমান,
আইফেল টাওয়ার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দেখা স্থাপত্য যা দেখতে প্রবেশমূল্য দিতে হয়, প্রচুর পর্যটনের ভীড়ে চারপাশ মুখরিত হয়ে থাকে, রাতের আইফেল টাওয়ার অনেক বেশি মোহনীয়, রংবেরঙের আলোক সজ্জায় সজ্জিত থাকে,
প্যারিস বিশ্বের সবচেয়ে দর্শনীয় স্থানগুলোর অন্যতম, এখানে অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে, এখানে হোটেল দো ভিল বা নগর ভবন,সাধু সুলপিস ফোয়ারা, সাধু জ্যাকের মিনার, ক্যাথিড্রাল গির্জা,সেন নদী, আছে শিল্পকলা জাদুঘর, বিজ্ঞান জাদুঘর। ল্যুভর মিউজিয়াম এটা ফ্রান্সের রাজাদের মধ্যযুগীয় প্রাসাদ, যা বর্তমানে ল্যুভর মিউজিয়াম, কুটির শিল্প, মুজে দর্সে,চিত্রকর্মের জাদুঘর, প্রাকৃতিক ইতিহাসের জাদুঘর, প্লাস দেতোয়াল,আর্কদো ত্রিও্ঁফ,বিভিন্ন যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতি সৌধ,কো্ঁসিয়ের্জেরি নদীর উপরে ইল দ্য লা সিতে নামক দ্বীপে অবস্থিত একটি মধ্যযুগীয় ভবন, যেটিকে একটি কারাগার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল ফরাসি বিপ্লবের সময়, ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ গ্রান্ড মসজিদ, আরও অনেক অনেক স্থাপত্য ছড়িয়ে আছে ফ্রান্সে,
প্রতি বছর প্রচুর ট্যুরিস্ট আসে ফ্রান্সে,তবে এখানে বহুজাতিক লোকের বাস,আফ্রিকার নাগরিক চোখে পড়ার মতো, ওদের একটি এলাকা আছে যেখানে বেশিরভাগ নিগ্রো বসবাস করে, এশিয়ান প্রচুর আছে, প্রচুর বাঙালি বাস করে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে,বাঙালি ভোজন রসিকদের জন্য প্যারিস ইউরোপের মধ্যে উপযুক্ত জায়গা, চটপটি ফুসকা থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাওয়া যায় এখানে, প্রচুর মিষ্টির দোকান আছে এখানে, আছে সবজি ও গোসারী সপ,সবচেয়ে মজার ব্যাপার রাস্তায় দাঁড়িয়ে পান বিক্রি করে, ঝাল মুড়ি বিক্রি করে, বাংলায় কথা বলে, মনে হবে একখণ্ড বাংলাদেশ, ইন্ডিয়ান,পাকিস্তান আফগানিস্তানের নাগরিক ও চোখে পড়ার মতো, এসব হোটেলে ও অনেক লোকের সমাগম হয়,
যাহোক সবকিছু মিলিয়ে ভালো লেগেছে, বিদেশে নিজের দেশের কৃষ্টি ও কালচার দেখে, নিজের দেশের প্রতি মমতা আরও বেড়ে যায় বহুগুন,
রাতের আইফেল টাওয়ার দেখে আবার ফিরে আসি আমি আমার গন্তব্যে,
সবকিছু মিলিয়ে ফ্রান্সের ইতিহাস ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যাই আমি, বারবার যেতে ইচ্ছে করার মতো দেশ হলো ফ্রান্স, সৌন্দর্যের লীলাভূমি।।
