বগুড়া অঞ্চলে মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে হাইওয়ে পুলিশের তৎপরতা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া
বগুড়া অঞ্চলে মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে হাইওয়ে পুলিশ যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের মাধ্যমে জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তবে বেপরোয়া ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতি ও অসাবধানতার কারণে এখনও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটছে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে বগুড়া রিজিয়নের হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের ২৪ ঘণ্টা মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মহাসড়কটি ছয় লেনে সম্প্রসারণ হওয়ায় বর্তমানে যান চলাচল অনেকটাই নির্বিঘ্ন। সিরাজগঞ্জের চান্দাইকোনা থেকে রংপুর পর্যন্ত প্রতিদিন লাখ লাখ যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। আগের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে থ্রি-হুইলারের জন্য আলাদা সার্ভিস লেন থাকলেও কিছু চালক নিয়ম অমান্য করে মূল স্পিড লেনে উঠে পড়ছেন, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উত্তরাঞ্চলের ১১টি জেলার মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি একসময় যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা ও পুলিশি হয়রানির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও পেশাদার ও দায়িত্বশীল হওয়ায় ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কেবল আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি কিংবা অনৈতিক আচরণের অভিযোগ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া রিজিয়নে বর্তমানে মুখোমুখি সংঘর্ষজনিত দুর্ঘটনা নেই বললেই চলে। তবে চালকদের ক্লান্তি, অসাবধানতা, অতিরিক্ত গতি এবং বেপরোয়া ওভারটেকিংয়ের কারণে এখনও প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি সার্ভিস লেনের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় অনেক থ্রি-হুইলার চালক বাধ্য হয়ে মূল লেন ব্যবহার করছেন। দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা কিছু চালকও ভুলবশত স্পিড লেনে উঠে পড়ছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে শীত মৌসুমে মহাসড়কে ডাকাতির প্রবণতা বাড়ার আশঙ্কায় টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে হাইওয়ে পুলিশ। চলতি মাসে শেরপুর ও হাটিকুমরুল হাইওয়ে এলাকায় ডাকাতির সময় চারটি ডাকাত চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাতে মহাসড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে টহল জোরদার রেখেছে। একই সঙ্গে মাদক উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বগুড়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, দুর্ঘটনা হ্রাস ও মানুষের জীবন রক্ষায় চালক, চালক-সহকারী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিত কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ বগুড়া রিজিয়ন। রাজশাহী বিভাগভুক্ত হলেও এই রিজিয়নের কার্যক্রম পাঁচটি জেলায় বিস্তৃত-বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও রাজশাহী। বগুড়া সীমানায় দুটি হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের আওতায় বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক, সিরাজগঞ্জের নলকা-হাটিকুমরুল, বগুড়ার শেষ সীমানা রহবল থেকে রাজশাহীর বানেশ্বর পর্যন্ত এবং কুষ্টিয়ার লালনশাহ সেতু পর্যন্ত নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে পাবনার পাকশি হয়ে দাশুরিয়া পর্যন্ত জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।
বগুড়া রিজিয়ন হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. শহিদ উল্লাহ বলেন, মহাসড়ক নিরাপদ রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ছয় লেনে সম্প্রসারণ ও হাইওয়ে পুলিশের সক্রিয় তৎপরতার ফলে বর্তমানে এই সড়কে যান চলাচল অনেকটাই নির্বিঘ্ন।
তিনি আরও বলেন, জনসচেতনতা বাড়াতে ওপেন হাউজ ডে, মাইকিং, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম, চালক-হেলপার ও পরিবহন মালিক সমিতির সঙ্গে সভা-সেমিনার এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালু রয়েছে। ভবিষ্যতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
