বগুড়ায় টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগ কমাতে সিটি প্রশাসকের তৎপরতা
বিশেষ প্রতিনিধি, বগুড়া
বগুড়ায় বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কখনো মাঝারি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টির ফলে মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সাতমাথাসহ শহরের প্রধান সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। এছাড়া ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ময়লা পানি উপচে সড়কে আসছে। ফলে চলাচলরত পথচারীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বগুড়া আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার বিকেল তিনটা থেকে রাত পর্যন্ত শহরে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বুধবার রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন। এ সময় তার সঙ্গে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি জলাবদ্ধ কবলিত এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি দেখেন এবং ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জলাবদ্ধতার বর্তমান অবস্থা এবং নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। যে সব কারণে শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিহ্নিত করে সমাধানের নির্দেশ দেন তিনি।
জানা যায়, বৃষ্টির তীব্রতা এবং ড্রেনগুলোর পানি নিষ্কাশনের মুখ বন্ধ থাকায় শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা, শেরপুর রোড, বড়গোলা, সূত্রাপুর, চকসূত্রাপুর, কান্দাপাড়া, পার্ক রোড ও নারুলিসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যায়। অনেক জায়গায় রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে যাওয়ায় রিকশা, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। পথচারীদের
অনেককেই হাঁটুসমান পানি ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে।
বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন জানান, বগুড়া মহানগরে জলাবদ্ধতা ও যানজট একদিনের সমস্যা নয়। এটা প্রায় ২০ থেকে ২৫ বছরের চলমান সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য নগরবাসীর কাছে তিন মাসের সময় চেয়েছি। এর মধ্যেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে। তবে এজন্য নগরবাসীকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
তিনি বলেন, মহানগরের অধিকাংশ ড্রেন ফাস্টফুডের পরিত্যক্ত প্যাকেটে ভরপুর হয়ে আছে। এ কারণে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় ড্রেন উপচে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই যানজট ও জলাবদ্ধতা দূর করা হবে।
