বগুড়ায় হত্যার ঘটনায় তিনজন গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:

বগুড়ার শাজাহানপুরে ভুট্টাক্ষেত থেকে কলেজ ছাত্র শাহরিয়ার ইসলাম রিয়াজ ওরফে আশিকের গলা কাটা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সাথে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো দুটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়ে বগুড়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরাফত ইসলাম।
গ্রেফতাররা হলেন-একই উপজেলার পরাণবাড়িয়া পূর্বপাড়া গ্রামের ২২ বছরের কাউছার, ঝালোপাড়া গ্রামের ২০ বছরের মাহমুদুল ও রামপুর গ্রামের ২০ বছরের সাহান। গত সোমবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের মধ্যে সাহানের কাছ থেকে আশিকের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আর বাকি দুজনের কাছে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত চাকু পাওয়া যায়। নিহত আশিক ও হত্যাকান্ডে জড়িত সবাই একে অপরের বন্ধু।
এর আগে, গত রোববার বিকেলে শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের রামপুরের জংলাপুকুরের একটি ভুট্টাক্ষেতে আশিকের লাশ পাওয়া যায়। শনিবার দিবাগত রাতে গলা ও পায়ের রগ কেটে তাকে সেখানে হত্যা করা হয়।

নিহত আশিক উপজেলার পরাণবাড়িয়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বাবুলের ছেলে। বগুড়ার শেরপুর ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল সে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত রবিবার রাতে নিহতের মা আরজি খাতুন বাদি হয়ে শাজাহানপুর থানায় মামলা করেন। হত্যাকান্ডে মোট চারজন জড়িত রয়েছেন বলে জানায় পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শরাফত ইসলাম জানান, একটি কাজের জন্য নিহত কলেজ ছাত্র আশিক কাউছারকে ৪০০ টাকা দেয়। কিন্তু ওই কাজটি কাউছার করেনি। পরে কাউছার ওই টাকা মাহমুদুলের কাছে রাখে। মাহমুদুল সেই টাকা অন্য কাজে ব্যয় করে। এদিকে কাজ না হওয়ায় টাকা ফেরত না পাওয়ায় আশিক ক্ষিপ্ত হন। সে কাউছারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে।
এরপরই আশিককে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। তারা ওই ভুট্টাক্ষেতে আশিককে ডেকে নিয়ে হত্যা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের কথা স্বীকার করে গ্রেফতারকৃতরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights